Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

ক্যানসার মারণ অসুখ, প্রতি মুহূর্তে মিথ্যা প্রমাণ করছেন এঁরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৮ সালের একটি ঘটনা মুগ্ধ করেছিল রাজ্যবাসীকে। ক্যানসারের (Cancer) মতো মারণব্যধির সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয়েছিলেন পাঁশকুড়ার এক কিশোরী। নাম নবনীতা মণ্ডল। তিন বছর ধরে লিম্ফোমা হার্ট ও ফুসফুসের ক্

ক্যানসার মারণ অসুখ, প্রতি মুহূর্তে মিথ্যা প্রমাণ করছেন এঁরা

শেষ আপডেট: 22 September 2021 09:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৮ সালের একটি ঘটনা মুগ্ধ করেছিল রাজ্যবাসীকে। ক্যানসারের (Cancer) মতো মারণব্যধির সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয়েছিলেন পাঁশকুড়ার এক কিশোরী। নাম নবনীতা মণ্ডল। তিন বছর ধরে লিম্ফোমা হার্ট ও ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসে এ রাজ্যেই ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়ান এই কিশোরী। এ রাজ্যে এমন উদাহরণ আরও আছে। বারাসতের দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ার তিথি আইচ খবরের শিরোনামে আসেন ২০১৯ সালে। সতেরো বছরের মেয়েটা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০১৪ সালে।  কালব্যধিকে হারিয়ে ফিরে এসে  এখন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে নিজের লড়াই ও জয়ী হয়ে ওঠার গল্প শোনান আক্রান্ত শিশুদের। World Rose Day: Quotes and messages to give hope to cancer patients and  survivors | Trending & Viral News ভালবাসা, অনুপ্ররণাই মারণ ব্যধি জয় করার আসল ওষুধ। এই লক্ষ্যেই গোলাপ দিবস পালিত হয় বিশ্বজুড়ে। ভালবাসার দিন আজ নয়। তবে ভালবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার দিন। প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড রোজ ডে’। এই গোলাপ দিবসের সঙ্গে ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র কোনও সম্পর্ক নেই। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের জীবন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করাই এই বিশেষ দিনটির উদ্দেশ্য। গোলাপ ফুলের সঙ্গে প্রেম-ভালবাসা-বন্ধুত্বের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে। মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন যাঁরা, তাঁদের জীবনে এক টুকরো ভালবাসা , আনন্দের মুহূর্ত ছড়িয়ে দিতেই গোলাপ দিবস পালিত হয় প্রতি বছর। এই দিনে ক্যানসার রোগীদের গোলাপ ফুল, কার্ড, উপহার দিয়ে তাঁদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা হয়। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছোটখাটো অনুষ্ঠানও হয়। বাঁচার ইচ্ছা চলে গেছে যে ক্যানসার রোগীদের, মারণ রোগের যন্ত্রণা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে যাঁদের, সেই মুহূর্ষু রোগীদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয় যাতে তাঁদের জীবন গোলাপের নরম পাপড়ির মতোই পেলব, মসৃণ, জয়ের সুগন্ধে ভরে ওঠে। গোলাপ দিবসের সঙ্গে ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। কানাডার ১২ বছর বয়সী ছোট্ট একটি মেয়ে মেলিন্ডা রোজের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই এই দিনটি পালন করা হয়। রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল মেলিন্ডা। বিরল অস্কিন টিউমার ধরা পড়েছিল তাঁর। চরম যন্ত্রণার দিনগুলোতেও বাচ্চা মেয়েটি জীবনে বাঁচার আশা ছাড়েনি। তার প্রতিটা ই-মেল, কবিতা, চিঠিতে রোগের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচার কথা লেখা থাকত। ছোট্ট একটা মেয়ের এমন ইতিবাচক মনোভাব ও মনোবল মুগ্ধ করেছিল বিশ্ববাসীকে। বিশ্বের সমস্ত ক্যানসার আক্রান্তদের কাছে মেলিন্ডা আজও জীবন্ত উদাহরণ। তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই গোলাপ দিবসের ভাবনা।   দুরারোগ্য ক্যানসারও দমিয়ে রাখতে পারেনি দুরারোগ্য অসুখ এক সময় স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল তাঁর জীবনের পথ। দিনরাত বিছানায় শুয়ে শুয়ে নিজের মেক আপ ভ্যান, শুটিং ফ্লোর, স্বামী ও ছেলের কথাই ভাবতেন, সেই যুদ্ধ জয় করেছিলেন নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনালী বেন্দ্রে। মনের জোর ও সাহসকে অবলম্বন করে ক্যানসার জয়ীদের তালিকায় এখন উঠে এসেছে তাঁর নামও। Sonali Bendre: Manisha Koirala has been a big help in crusade against cancer  | Hindi Movie News - Times of India হাসির জন্যই জনপ্রিয় ছিলেন সুন্দরী ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী মণীষা কৈরালা। ৪২ বছর বয়সে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন মণীষা নিজের ইতিবাচক মনোভাবের জোরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালাতে থাকেন। আর এখন ক্যানসার আক্রান্তদের আশার পথ দেখান অভিনেত্রী। বরফি ছবির প্রতিভাবান পরিচালক অনুরাগ বসু। অনেকেই জানেন না ২০০৪ সালে রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন অনুরাগ বসু। সে বছরই তাঁর প্রথম কন্যা ইশানার জন্ম হয়। ডাক্তারও জানিয়ে দিয়েছিল ২ মাসের বেশি সময় নেই তার কাছে। কিন্তু চিকিৎসকের এই সতর্কবানী টলাতে পারেনি শক্ত মনের মানুষটিকে। সেই সময়ই 'লাইফ ইন মেট্রো' এবং 'গ্যাংস্টার' ছবির চিত্রনাট্য লেখেন অনুরাগ। ৩ বছরের কেমিওথেরাপি এবং ওষুধের পর আবার স্বমহিমায় অনুরাগ বসু। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে তাকে হারিয়ে ফিরে আসার নায়ক অবশ্যই ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। বিরল এক মারণ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন যুবরাজ। সারা দেশ প্রার্থনা করেছিল যুবরাজের আরোগ্য কামনায়। যুবরাজের হৃদয় আর ফুসফুসের মধ্যে টিউমার তৈরি হয়েছিল এবং তা ক্রমশই বড় হচ্ছিল। কিন্তু যুবরাজ ক্যানসারকে পরাজিত করেন। দ্য টেস্ট অফ মাই লাইফ বইয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বর্ণনা করেছেন যুবরাজ। ক্যানসার জাল বিস্তার করছে একটা সময় ক্যানসারের কোনও অ্যানসার ছিল না। এখন আছে। ফুসফুস, ত্বক, অন্ত্র, জরায়ু, প্রস্টেট—মারণ রোগের যে কোনও ধরনেরই চিকিৎসা আছে। তাও কর্কট রোগ তার জাল বিছিয়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা বলছে, পিছিয়ে পড়া, আর্থিকভাবে অনুন্নত দেশগুলিতে ক্যানসারের প্রকোপ বেড়েছে ৮১ শতাংশ। সেই তালিকায় রয়েছে আমাদের দেশও। রোগ নির্ণয়ে গলদ, চিকিৎসায় খামতি এবং সচেতনতার অভাব যার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যানসার কন্ট্রোল (UICC)-এর উদ্যোগে প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যানসার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার নির্ণয় করার ওপর সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা এই দিনটির লক্ষ্য। আর গোলাপ দিবসে ক্যানসার রোগীদের যুদ্ধজয়ের পাঠ পরানো হয়। এই দুটি দিনের উদ্দেশ্যই হল, ‘আই অ্যাম অ্যান্ড আই উইল’ (I am and I will)—আমি পারি, এবং আগামী দিনেও পারব, ক্যানসার নামক মারণ রোগকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার শপথ নেওয়া। World Rose Day Is A Celebration Courage And Resilience Of Cancer Patients -  SheThePeople TV
কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কর্কট রোগ?
কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিই এই মারণ রোগের অন্যতম কারণ। ফুসফুস, ত্বক, অন্ত্র, প্রস্টেট, স্তন, জরায়ু, ক্যানসারের শাখা-প্রশাখা অনেক। তাদের কারণও একাধিক। হু-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি একটি মাল্টি ফ্যাকটোরিয়াল ডিজিজ। আমাদের দেশের প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। ফি বছর পাঁচ লক্ষেরও বেশি ক্যানসারের আক্রমণে প্রাণ হারান। এই আক্রান্তদের কম করেও বয়স ২৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। নতুন রোগাক্রান্তদের সংখ্যা ১২ লক্ষেরও বেশি। আমাদের দেশে কী কী কারণে বাড়ছে ক্যানসার? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, এর কারণ অনেক। প্রথমত, বাড়তি ওজন বা ওবেসিটি। ওজন নিয়ন্ত্রণ না করলে নারী পুরুষ নির্বিশেষে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। খাদ্যাভাসই এর জন্য মূলত দায়ী। এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুর কারণ ‘হাই বডি-মাস ইনডেক্স।’ দ্বিতীয়ত, তামাক এবং অ্যালকোহল। সিগারেট, বিড়ি, গুটখা, খৈনি সহ যাবতীয় তামাকজাত নেশার কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়েছে অন্তত ২২ শতাংশ।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, তামাকজাত নেশা এবং অ্যালকোহলের কারণে ২০৪০ সালের মধ্যে ক্যানসার রোগে মৃতের সংখ্যা বাড়বে অন্তত ৬০ শতাংশ। তৃতীয়ত, ফুসফুস, কোলেস্টেরল, লিভার ও স্তন ক্যানসারে বহু মানুষের মৃত্যু হয় এই দেশে। সেডেন্টারি লাইফস্টাইলও ক্যানসার ডেকে আনতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসারের ডিরেক্টর এলিসাবেট ওয়েইডারপাস বলেছেন, ২০০০-২০১৫ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলিতে ক্যানসারের প্রকোপ কমেছে ২০ শতাংশ। সচেতনতা ও উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থাই এর কারণ।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, বিভিন্ন অসুখ নির্ণয়ে বায়োপসি এখন সব দেশেই স্বীকৃত। কিন্তু বায়োপসি নিয়ে মানুষের ভয় আর আতঙ্ক এখনও কাটেনি। যার ফলে অসুখ নির্ণয় সঠিকভাবে হয় না। টিউবারকিউলোসিস, ত্বকের অসুখ সোরিয়াসিস, অন্ত্র, স্তনের টিউমার-সহ নানান রোগ নির্ণয়ে বায়োপসি করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা বায়োপসি মানেই সেটা ক্যানসারের কারণ। এই ভয় এবং গাফিলতির কারণে অনেকক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়ে না। যার কারণে চিকিৎসাতেও বিলম্ব হয়, এবং পরিণতি ভয়ঙ্কর মৃত্যু। পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'

```