দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাইরে ভক্তদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু ঘরে শাশুড়ির হাত থেকে পেলেন না। ৩৯ বছরের কনকদুর্গা ও ৪০ বছরের বিন্দু আম্মিনি খুব সাহস করে ঢুকেছিলেন কেরলের শবরীমালা মন্দিরে। তারপর ভক্তদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ১৩ দিন লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল তাঁদের। মঙ্গলবার তাঁরা বাড়ি ফেরেন। কিন্তু বাড়ি ফেরা মাত্রই কনকদুর্গার শাশুড়ি সজোরে আঘাত করেন তাঁর মাথায়।
তিনি একেবারেই চাননি পুত্রবধূ আয়াপ্পানের মন্দিরে প্রবেশ করুক। শাশুড়ির মারে গুরুতর আহত হয়ে কনকদুর্গা হাসপাতালে ভরতি হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
কেরলে আয়াপ্পা দেবতার মন্দিরে দীর্ঘকাল যাবৎ ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মেয়েদের ঢোকা বারণ। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই নিষেধাজ্ঞা বেআইনি। তাতে অসন্তুষ্ট হন ভক্তরা। অক্টোবরে বেশ কয়েকজন মহিলা ভক্ত ওই মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভক্তদের বাধায় তাঁদের ফিরে আসতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায় খতিয়ে দেখার জন্য অনেকগুলি পিটিশন জমা পড়ে। কেরল জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। কংগ্রেস ও বিজেপি আলাদাভাবে আন্দোলন করতে থাকে।
সুপ্রিম কোর্ট শবরীমালা নিয়ে রায় দেওয়ার ৯৫ দিন বাদে, গত ২ জানুয়ারি দুই মহিলা মন্দিরে ঢুকতে সক্ষম হন। তাঁরা ২৪ ডিসেম্বর মন্দিরের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। কিন্তু ভক্তদের বাধায় পিছিয়ে আসেন। এরপর তাঁরা কোনও এক গোপন জায়গায় লুকিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন সুযোগের জন্য। ২ জানুয়ারি ভোরে পুলিশের সহায়তা নিয়ে তাঁরা মন্দিরে ঢোকেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ঘোষণা করেন, ৫০-এর কমবয়সী দুই মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো পুলিশ তাঁদের সাহায্য করেছে।
মন্দিরে ঢোকার পরে দু’জনে বাড়ি ফিরতে পারেননি। তাঁদের কোচি শহরের কাছে কোনও এক গোপন জায়গায় রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে জানা যায়, কনকদুর্গা পেশায় সরকারি কর্মচারী। বিন্দু কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার। সাংবাদিকদের কনকদুর্গা বলেন, আমি জানতাম, মন্দিরে ঢোকার জন্য আমার জীবন বিপন্ন হতে পারে। আমরা গর্বিত যে, আগামী দিনে মেয়েদের ওই মন্দিরে ঢোকার পথ সহজ করতে পেরেছি। আমি আয়াপ্পানের ভক্ত তো বটেই। তাছাড়া এর সঙ্গে লিঙ্গসাম্যের প্রশ্নটিও যুক্ত।
তখনই কনকদুর্গা স্বীকার করেছিলেন, তাঁর পরিবার চায় না তিনি ওই মন্দিরে ঢুকুন। পরিবারের মত না মেনেই তিনি মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন শুনে কেরল জুড়ে হরতাল শুরু হয়। এতদিন লুকিয়ে থাকার পর তাঁরা ভেবেছিলেন, ভক্তদের রাগ প্রশমিত হয়েছে। এখন বাড়ি ফেরা নিরাপদ। কিন্তু বাড়িতেই আক্রমণের মুখে পড়তে হল কনকদুর্গাকে।