দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই সাংবাদিক প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন এম জে আকবর। গোটা একদিন মুখ বন্ধ রেখে অবশেষে রামানি মুখ খুললেন, মঙ্গলবার প্রিয়া রামানি সাফ জানালেন, মানহানির মামলার বিরুদ্ধে পাল্টা লড়বেন তিনি। সত্যি সামনে এসেছে,আরও আসবে।
মি-টু নিয়ে যখন দেশজুড়ে হৈ চৈ, তখনই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ১৪ জন মহিলা সাংবাদিক আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। এর মধ্যে প্রথমে সারিতেই ছিলেন গাজ়ালা ওয়াহাব, প্রিয়া রামানি, সুতপা পাল। তাদের সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেন আকবর। পাল্টা জবাবে প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।
প্রিয়া রামানি আকবরের নাম না নিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন। এই প্রসঙ্গে রামানি জানান, "যে মহিলারা আকবরের নাম করে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস নেই আকবরের।আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে সেই প্রতিশোধটাই নিতে চাইছেন আকবর, যার নিন্দা করছি। আকবর প্রমাণ করলেন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।"
মেয়েদের যৌন হেনস্থা এতই বেশি, যে মিথ্যে বলার প্রয়োজন ভীষণ কম
গত ২ সপ্তাহ ধরে মি-টু নিয়ে দেশজুড়ে হৈ চৈ পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন দেশের বিশিষ্ট, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা। এর মধ্যে আকবর প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ১৪ মহিলা সাংবাদিক আকবরের বিরুদ্ধে সরব হন। সেই সময় বিদেশ সফরে ছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী আকবর। দেশে ফিরে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেন। তারপরেই প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন।
আকবরের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ সংবাদমহল। প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে ট্যাগ করে সাংবাদিক স্বাতী চতুর্বেদী টুইট করেছেন, “কী লজ্জাজনক ভাবে আপনারা সরকার চালাচ্ছেন! আকবর পদত্যাগ করলেন না। অথচ ১৪ জন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন।” সাংবাদিক বরখা দত্তের কথায়, ‘‘অবিশ্বাস্য! সরকার যদি আকবরকে বরখাস্ত না-করে, তা হলে আমাদের উচিত তাঁর সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান বয়কট করা। যে ১৪ জন কথা বলার সাহস দেখালেন, তাঁদের কিছুতেই হেরে যেতে দিতে পারি না।’’
প্রিয়া রামানিও একইভাবে সরব হয়েছেন।তিনি জানান, "১৪ মহিলা এতদিন বাদে কেন মুখ খুলছেন সেই প্রশ্নও উঠছে, অথচ যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁকে কোনও প্রশ্ন করা হচ্ছে না। আজ যদি আকবরের মতো মানুষ মন্ত্রীত্বে থাকেন, তাহলে দেশের মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছি।"