
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 17 March 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রমজান মাসে ফুরফুরা শরিফে (Furfura Sharif) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী থেকে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ভোটের রাজনীতি করতে ফুরফুরায় গিয়েছেন। এদিন বিকেলে ফুরাফুরা শরিফের অনুষ্ঠান থেকে যার জবাব দিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এদিন ফুরফুরায় অনুষ্ঠানে পৌঁছে শুরুতেই ওই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, বিরোধীদের এই 'ধর্মের রাজনীতি'র অভিযোগ নিয়ে তিনি বিরক্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি যখন দুর্গা পুজো করি, কালী পুজো করি তখন তো কেউ এই প্রশ্ন তোলেন না। তাহলে ইফতারে যোগ দিলে প্রশ্ন উঠছে কেন?"
খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মনে রাখবেন আমি যেমন খ্রীশ্চানদের অনুষ্ঠানে যায় তেমনই ঈদ মুবারকেরও যায়। ইফতার নিজে করি, পাঞ্জাবিদের গুরর দোয়ারেও যায়, প্রতিটি ধর্মের অনুষ্ঠানেই আমি যায়। কারণ, আমি মনে করি বাংলার মাটি সম্প্রীতির মাটি। তাই যেমন দোলের শুভেচ্ছা জানিয়েছি তেমনই রমজানে সকলের দোয়া প্রার্থনা করেছি।"
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফুরফুরায় যে পলিটেকনিক কলেজ এবং ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে তা আবু বকর সাহেবের নামেই নামকরণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওবিসি সংরক্ষণের বিলটার জন্য রিক্রুটমেন্ট আটকে রয়েছে। তৈরি করা জিনিস থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার, নার্সদের রিক্রুটমেন্ট করতে পারছি না। এগুলোর সমস্যা মিটে গেলে ওগুলো চালু হয়ে যাবে।
ফুরফুরার পীরজাদারাও মুখ্যমন্ত্রীর সম্প্রীতির বার্তার প্রশংসা করে বলেন, "এখানে হিন্দু মসুলমান সকলে একসঙ্গে বসবাস করি। কিছু অশুভশক্তি আমাদের এই ভালবাসার মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ ভাবে নজর রেখেছেন।"
গত সোমবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ) নেতা নওসাদ সিদ্দিকি। এলাকার উন্নয়নের কাজে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তার আট দিনের মাথায় ফুরফুরায় (Furfura Sarif) গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ নওসাদের এলাকায় পৌঁছন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ইফতারের পাশাপাশি শুরুতে প্রায় ৭০ জন পীরসাহেব ও পীরজাদার সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সংখ্যালঘুদের নিয়ে নানাবিধ হুংকার এবং সে সব নিয়ে তৃণমূলের হুমায়ুন কবীর ও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মন্তব্য ঘিরে যে চর্চা শুরু হয়েছে সে ব্যাপারটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভাল চোখে দেখেননি। সূত্রের খবর, এই সব তো বটেই, পাশাপাশি ফুরফুরার যাঁরা পীর রয়েছেন তাঁদের মনোভাব, বক্তব্য তথা সেখানকার উন্নয়নের খোঁজখবর নিতেই এদিন সেখানে পৌঁছন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।