
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 August 2024 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ের মৃত্যুর সুবিচার পেতে প্রয়োজনে ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দেবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন আরজি করে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হওয়া নির্যাতিতা তরুণীর বাবা-মা।
মঙ্গলবার দিনভর টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন তাঁরা। দেখেছেন ছাত্র সমাজের নবান্ন অভিযান ঘিরে এদিনের ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে নির্যাতিতা বাবা-মায়ের কণ্ঠ দিয়ে ঝরেছে একরাশ আশঙ্কা। তাঁদের কথায়, "মেয়েটাকে যারা এভাবে খুন করল তাঁদের শাস্তি হবে তো? মাঝপথে আন্দোলন থেমে যাবে না তো!"
পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার ছাত্র সমাজের নামে বাংলায় বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি করতে কোনও শক্তি নেপথ্যে থেকে এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে। আরও একধাপ এগিয়ে শাসকদলের তরফে এদিনের আন্দোলনকে সরাসরি বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্যাতিতার বাবা-মা কোনও মন্তব্য করেননি।
তবে তাঁদের আশঙ্কা একটাই, এসবের মাঝে আসল দাবি মেয়ের বিচার প্রক্রিয়া যেন থিতিয়ে যায়!
গত ৮ অগস্ট মধ্যরাত থেকে ২৩ অগস্ট। মাঝে ১৯ দিন অতিক্রান্ত। আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তভার গ্রহণের পরও তদন্ত বিশেষ এগোয়নি বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা। একই মত পরিবারেরও। তাঁদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে একাধিক প্রশ্ন। নিহত ডাক্তারি পড়ুয়ার মা-বাবা বলছেন, "যে স্বপ্ন পূরণের জন্য মেয়েটা আরজি করে গিয়েছিল, সেখানেই ওকে শেষ করে দেওয়া হল। অনেক প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই। আমরা চাই, মেয়ের সুবিচারের জন্য সিবিআই আরও তৎপর হোক।"
মেয়ের দেহ দেখতে না দিয়ে কেন চার ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হল? কেন প্রথমে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছিল? কর্মস্থলে ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন, অথচ পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ক্রাইম সিন সুরক্ষিত করল না কেন? কাকে আড়াল করা হচ্ছে? সেই প্রভাবশালী কে? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, গণধর্ষণ হয়ে থাকতে পারে, অথচ সঞ্জয় ছাড়া আর কাউকে কেন ধরা যাচ্ছে না? এমনই হাজারও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের মনে।
প্রসঙ্গত, এদিনের ছাত্র সমাজের আন্দোলনে যোগ দেননি আন্দোলনকারী ডাক্তারি পড়ুয়ারাও। তাঁরা আগেই একথা জানিয়েও দিয়েছিলেন।