
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 April 2025 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার এসএসসি মামলার (SSC Recruitment Case) শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) এক বছর আগে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল রেখে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করেছে। শুধু তাই নয়, বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারা ফেরত দেবেন, এই সংখ্যাটা আদতে কত তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। দ্য ওয়াল-কে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনজীবী ফিরদৌস শামীম (Firdous Samim)।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলই বাতিল করেছে। অর্থাৎ ২৫ হাজার ৭৫৩ জনেরই চাকরি আর নেই। তবে প্রত্যেককে যে বেতন ফেরত দিতে হবে এমনটা নয়। যাঁরা চিহ্নিত অযোগ্য, তাঁদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ ২০১৬ সাল থেকে এতদিন তাঁরা যে বেতন পেয়ে এসেছেন, তা-ই ফেরত দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এদিন চূড়ান্ত রায়ে বলেছে, 'হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করার মতো যৌক্তিক কারণ আমরা খুঁজে পাই নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব প্রার্থীর নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে, তাঁদের চাকরি বাতিল করা হবে এবং ইতোমধ্যে প্রাপ্ত বেতন বা অন্যান্য অর্থ ফেরত দিতে হবে। যেহেতু এই নিয়োগপ্রক্রিয়া জালিয়াতির মাধ্যমে হয়েছে, এটি স্পষ্টতই প্রতারণার সামিল। তাই, এই বিষয়ে আগের নির্দেশ (হাইকোর্টের নির্দেশ) পরিবর্তনের কোনও যৌক্তিকতা নেই।'
তবে রায়ের ৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদে এও বলা হয়েছে, 'যেসব প্রার্থীকে সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়াটি বেআইনি এবং সংবিধানের ১৪ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে ঘোষিত হয়েছে। ফলে, তাঁদের নিয়োগও বাতিল করা হচ্ছে। তবে, যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের প্রাপ্ত বেতন বা অন্যান্য অর্থ ফেরত দিতে হবে না, কিন্তু তাঁদের চাকরিও শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি, যেহেতু পুরো পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও ফলাফল অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই এই পরীক্ষার মাধ্যমে আর কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।'
আদতে এই সংখ্যাটা কত? এসএসসি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাটা ৫ হাজার ৪৮৫। কিন্তু এর পরেও রয়েছে বোর্ড ও রাজ্যের তরফে আলাদা আলাদা করে দেওয়া তালিকা। তাই মোট সংখ্যা কত গিয়ে দাঁড়াবে তা এখনও অস্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনামা সামনে না আসা পর্যন্ত তা স্পষ্টও হবে না। শুধু বেতন ফেরত নয়, ওই চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীদের সুদও দিতে হবে। অর্থাৎ এতদিন যা বেতন পেয়েছেন তার ১২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে তাদের।
কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলেও তাতে খানিকটা বদল বা 'মডিফিকেশন'ও করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের এসএসসিতে যাঁরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁরাও ফের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাঁদের বয়সের সীমাও শিথিল করতে হবে সরকারকে। এই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ৩ মাসের ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে আদালত।
২০১৬ সালে যাঁরা যাঁরা আবেদন করেছিলেন, শুধুমাত্র চিহ্নিত অযোগ্যরা বাদে, প্রত্যেকে এতে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই তিন মাসের মধ্যে যাঁরা বৈধ, তাঁরা যে বিভাগে কাজ করতেন, সেখানে তাঁরা চাকরি করে যাবেন। তাঁরা তিন মাস ধরে বেতনও পাবেন।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছেন, এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত সকলে পুরনো কাঠামোতেই বেতন পাবেন। এর পরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা বিবেচিত হবেন, তাঁরা আবার চাকরিতে ফিরে যাবেন।
শুধু তাই নয়, যেসব সরকারি কর্মীরা অন্য সরকারি দফতর থেকে শিক্ষা দফতরের এই পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন, তাঁরা ফের পুরনো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। আর এই কাজ করতে হবে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই। এত বড় ধাক্কার মুখে সামান্য স্বস্তি বলতে এটুকুই।