
শেষ আপডেট: 1 February 2024 22:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন লোকসভা ভোটে বাংলায় কংগ্রেসের হাত ধরতে নারাজ তেমনই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও তৃণূলের সঙ্গ এড়াতে চান। বাংলায় দুই কংগ্রেসের এই রেষারেষির সুবিধা চাইছে সিপিএম। সেই প্রত্যাশা পূরণে বৃহস্পতিবার ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার বাংলায় সফররত রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রাথমিক আলোচনা সেরে নিলেন দুই সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তী।
অন্যদিকে, অধীর চৌধুরীও কোনওরকম রাখঢাক না করে বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিলেন, বাংলায় বামেদের হাত ধরেই বিজেপিকে হারাতে সক্ষম কংগ্রেস। হারাতে সক্ষম তৃণমূলকেও। জোড়াফুল শিবিরকে প্রাপ্যের অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি।
রাহুলের যাত্রায় উত্তরবঙ্গেই যোগ দেয় সিপিএম। আগের বার রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রায় পশ্চিমবঙ্গ ছিল না। তবে রাহুলের যাত্রা উপলক্ষে প্রদেশ কংগ্রেস সাগর থেকে পাহাড় পদযাত্রা করে। সেই যাত্রায় বামেদের শামিল করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে। এবার রাহুলের ন্যায় যাত্রায় যোগদানে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাড়তি উৎসাহ গোপন থাকেনি। আসলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা বাংলা থেকে ফের লোকসভায় খাতা খুলতে মরিয়া। দলের ভোট ব্যাঙ্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও সিপিএম নেতারা মনে করছেন, গত পঞ্চায়েত ভোটে দুই শিবিরের মধ্যে গড়ে ওঠা বোঝাপড়ার সুফল লোকসভা ভোটে মিলতে পারে। আসন ছাড়াও দলের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণও বাড়ানো দরকার। ভোট তলানিতে গিয়ে ঠেকায় জাতীয় দলের স্বীকৃতি সরু সুতোয় ঝুলছে
বৃহস্পতিবার রঘুনাথগঞ্জে রাহুলের সঙ্গে দেখা করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। বৈঠক শেষে সেলিম জানান, রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার ইস্যুগুলির সঙ্গে তাঁরা একমত। তাই রাহুলকে সংহতি ও শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন।
সেলিম বলেন, লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ততই আরএসএস-বিজেপির সমালোচনা ছেড়ে সিপিএম-কংগ্রেস, রাহুল গান্ধী-অধীর চৌধুরীদের নিন্দায় মেতেছেন। তাঁর কথা থেকেই বোঝা যায় তৃণমূলের উদ্দেশ্য কী। প্রসঙ্গত, বুধবারই বহরমপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম-কংগ্রেসকে এক যোগে নিশানা করেন। বলেন, এই দুই দলই বিজেপির রাস্তা পরিস্কার করে দিচ্ছে। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, সিপিএমই কংগ্রেসকে বিপথে চালিত করছে। আসলে মমতা ঘনিষ্ঠ মহলে অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলের থেকেও সিপিএম নেতাদের পরামর্শ বেশি শোনেন, জাতীয় রাজনীতিতে যাঁরা প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে।
অন্যদিকে, অধীর বৃহস্পতিবার বুঝিয়ে দেন, তৃণমূল নেত্রী যতই চেষ্টা করুন, কংগ্রেস বাংলায় সিপিএমের হাত ধরে থাকতেই আগ্রহী। রাহুলের সঙ্গে সিপিএম নেতাদের বৈঠকের পর অধীর বলেন, বাংলায় বাম-কংগ্রেসই তৃণমূল ও বিজেপিকে হারাতে সক্ষম।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়া করে কংগ্রেসের কোনও লাভ হবে না, রাহুলকে ফের তা বুঝিয়েছেন অধীর। অন্যদিকে, বাংলায় তৃণমূলের বিরোধিতা না করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই অসম্ভব, রাহুলকে বোঝান সেলিম, সুজনরা। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ রাজ্যের মানুষ বিরক্ত এবং এই পরিস্থিতিতে জোড়াফুলের সঙ্গে বোঝাপড়া আদতে ধর্মনিরপেক্ষ শিবির ও শক্তিকেই বিপন্ন করবে বলে বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন বাম নেতারা।
সূত্রের খবর, রাহুল কোনও মন্তব্য করেননি। স্বভাবসুলভভাবেই তিনি দু-পক্ষের কথা শুনেছেন। আসলে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব জোট ভাঙার দায়িত্ব নিতে নারাজ। যে কারণে রাহুল তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের সমালোচনা এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি রাজ্যে থাকাকালে কেউ যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ না খোলেন, সেই নির্দেশও দিয়েছেন বারে বারে।
হাইকমান্ডের কৌশল মেনেই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বৃহস্পতিবারও তৃণমূল সম্পর্কে কড়া প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে গিয়েছেন। রাহুলের ছবি সম্বলিত ফ্লেক্স, ফেস্টুন ছেঁড়ার ঘটনা সম্পর্কে বৃহস্পতিবারও রমেশ বলেছেন, একটা দুটো ঘটনা তো ঘটেই থাকে। তিনি এগুলি খুব একটা গায়ে মাখতে চাননি।
লক্ষণীয়, বুধবার মালদায় রাহুলের কনভয়ে ইট পড়ার ঘটনাটি নিয়ে গোড়ায় রাজ্য কংগ্রেস নেতারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেও কংগ্রেস হাইকমান্ড তাতে গলা মেলায়নি। রাহুলের গাড়িতে ইট লাগেনি বলেও বিবৃতি দেন জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্রেরা।