দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছিল। সেই পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা। পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি। অনেকটা বিকাশ দুবের এনকাউন্টারকে মনে করিয়ে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের হাপুরের ঘটনা।
শুক্রবার সকালেই হাপুর জেলার একটি গ্রাম থেকে শিশুকন্যা ধর্ষণে অভিযুক্ত দলপতকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এ দিন সন্ধ্যায় পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গাড়ি থেকে নামানোর সময়েই দু’জন পুলিশকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে তাদের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে দলপত।
পুলিশ জানিয়েছে, গড় মুক্তেশ্বর থেকে কিছুটা দূরে যে জঙ্গলের মধ্যে শিশুকন্যাকে তুলে এনেছিল তিন অভিযুক্ত, সেখানেই নিয়ে আসা হয় দলপতকে। যে ঝোপের ভেতর থেকে বাচ্চা মেয়েটাকে রক্তাক্ত উদ্ধার করা হয়েছিল সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে জেরা করার পরিকল্পনা ছিল পুলিশের। কিন্তু গাড়ি থেকে নামানোর সময়েই সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। জানা গেছে, দলপতের পায়ে গুলি লেগেছে।
হাপুরের পুলিশ সুপার সঞ্জীব সুমন বলেছেন, দলপত ভেবেছিল তাকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হবে। বার বার একই কথা বলছিল সে। তাই গাড়ি থেকে নামানোর সময়েই পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশও তৈরি ছিল। দলপতের পায়ে গুলি চালানো হয়েছে। তার আঘাত গুরুতর নয় বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই দলপত ধরা পড়ার আগে নানাভাবে বিভ্রান্ত করেছে পুলিশকে। কখনও নাম বদলে লুকিয়ে থেকেছে। আবার কখনও সুইসাইড নোট ছেড়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে সে আত্মহত্যা করেছে। শেষবার, একটি নদীর ধারে নিজের কিছু জামাকাপড় ও সুইসাইড নোট ছেড়ে গিয়েছিল সে। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, “আমি পুলিশের এনকাউন্টারে মরতে চাই না। তাই আত্মহত্যা করছি।”
হাপুরের একটি গ্রাম থেকে এদিন সকালে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। আরও দু’জনের খোঁজ চলছে। তাদেরও ধরে ফেলা হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তিনজনই আগে নানা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। দলের পাণ্ডা এই দলপতই। তাকে জেরা করলেই বাকিদের সন্ধান মিলবে।
হাপুর জেলার গড় মুক্তেশ্বর এলাকা থেকে একটি বছর ছয়েকের মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায় এই তিন অভিযুক্ত। শিশুটিকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার সারা শরীরে কালশিটের দাগ পড়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাচ্চাটিকে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল তার সারা শরীর রক্তে মাখামাখি ছিল। শরীরে অসংখ্য কাটাছেঁড়ার দাগ ছিল। হাসপাতালে পরীক্ষা করে ধর্ষণের প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনজনের বিরুদ্ধেই অপহরণ, পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।