
শেষ আপডেট: 18 September 2020 18:30
দেপসাং ভ্যালির ভৌগোলিক গুরুত্ব
দেপসাং ভ্যালিতে অধিকার ফলাতে পারলে আরও সুবিধা হবে চিনের। যেমন, দারবুক থেকে শিয়ক হয়ে দৌলত বেগ বিমানঘাঁটি অবধি যে রাস্তা তৈরি করছে ভারত সেটাই চিনের বাহিনীর মাথাব্যথার কারণ। তাই পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ নম্বরের কাছে অশান্তি বাঁধিয়ে পাহাড়ের উপরে ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছে চিন। দুই দেশের সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরেও ওই এলাকা থেকে সেনা সরায়নি তারা। বস্তুত, পেট্রলিং পয়েন্ট ১১, ১২,১২-এ ও পেট্রলিং পয়েন্ট ১৩ র কাছেও রাস্তা বন্ধ করে বসে পড়েছ চিনের সেনা। উত্তরে রাকি নালা থেকে পেট্রলিং পয়েন্ট ১০ ও দক্ষিণপূর্বে জীবন নালা অর্থাৎ পেট্রলিং পয়েন্ট ১৩ অবধি রাস্তাতে নজরদারি চালাতে চায় চিনের বাহিনী। কারণ এই এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকলে দৌলত বেগ ওল্ডির দিকে যাওয়া রাস্তায় নজরদারি করতে পারবে তারা। ফলে সামরিক দিক থেকে ভারতের দৌলত বেগ ওল্ডি দুর্বল হয়ে পড়বে।
দেপসাং ভ্যালির উত্তরে প্রায় ১৮ হাজার ফুট কারাকোরাম পাস বিস্তৃত। এই কারাকোরাম পাস আকসাই চিন গেঁষে গেছে। এর জি২১৯ গেটওয়ে দিয়ে তিব্বত ও জিনঝিয়াং প্রদেশে যাওয়া যায়। তিব্বতে আবার হেলিপোর্ট তৈরি করছে চিনের সেনা। উদ্দেশ্য সেই একই। তিব্বতের এয়ারবেস থেকে যখন তখন দেপসাংয়ের উপর এয়ার পেট্রলিং চালানো। কাজেই সবদিক থেকে আঁটঘাট বেঁধেই এগনোর চেষ্টা করছে তারা।
২০১৩ সালে এই দেপসাং ভ্যালিতেই প্রায় সপ্তাহ তিনেক ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল লাল ফৌজ। চিনকে আটকাতে দৌলত বেগ ওল্ডিতে বিমানঘাঁটি চালু করে দেয় ভারত। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, গত ১৫ বছর ধরে এই দেপসাং ভ্যালিতে আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া চিন। কিন্তু এখনও এক ইঞ্চি জমিও তারা জবরদখল করতে পারেনি। এখনও চিন কোনওভাবেই ওই এলাকায় পা বাড়াতে পারবে না। কারণ, দৌলত বেগের বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বাহিনী তাদের শক্তিশালী ফাইটার জেট মোতায়েন রেখেছে। দৌলত বেগ ওল্ডিতে মোতায়েন করা হয়েছে টি-৯০ ভীষ্ম, টি-৭২ ট্যাঙ্ক। রাতের বেলা দৌলত বেগের পাহাড়ি এলাকার প্রায় ১৬ হাজার ফুট উপর দিয়ে চক্কর কাটছে চিনুক অ্যাটাক কপ্টার। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্রতি মুহূর্তে চিনা বাহিনীর উপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কমব্যাট এয়ার পেট্রলিং-এর জন্য নামানো হয়েছে চিনুক কার্গো হেলিকপ্টার, আ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মিরাজ-২০০০ ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, মিগ-২৯ ফাইটার জেটের নয়া ভার্সন এবং নৌসেনার নজরদারি বিমান পি-৮১ এয়ারক্রাফ্ট। চিনা বাহিনীর উপর নজর রাখছে ইজরায়েলের তৈরি সশস্ত্র ড্রোন হেরন-টিপি। আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জন্যও প্রস্তুত আছে ভারতীয় বায়ুসেনা। চিনা ফৌজ যাতে ওয়েস্টার্ন, মিডল বা ইস্টার্ন সেক্টরে ঢুকতে না পারে সে জন্য ৩৪৮৮ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গেরিলা যুদ্ধে দক্ষ বাহিনী পাঠানো হয়েছে। শীতের আগেই আরও ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে পূর্ব লাদাখে।