দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজস্থানের স্পিকার যখন বিদ্রোহী বিধায়কদের নোটিস দিয়েছিলেন, তখন তিনি আদৌ ভেবেচিন্তে কাজ করেননি। মঙ্গলবার হাইকোর্টে কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের হয়ে এমনই সওয়াল করলেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের দু'টি বৈঠকে উপস্থিত হননি শচীন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ১৮ জন বিধায়ক। তারপরেই তাঁদের ডিসকোয়ালিফিকেশনের নোটিস দেন স্পিকার সি পি যোশি। নোটিশের বিরুদ্ধে শচীনরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এদিন তাঁদের আবেদনের ওপরে শুনানি হয়।
মুকুল রোহতগি বলেন, মনে হচ্ছে স্পিকার খুব তাড়াহুড়ো করে বিদ্রোহীদের নোটিশ পাঠিয়েছেন। কেন মাত্র দু'টি মিটিং-এ না আসার জন্যই ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট হচ্ছে না। করোনা অতিমহামারীর মধ্যে নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য বিধায়কদের মাত্র তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পড়ে মনে হয়, বিদ্রোহীদের সম্পর্কে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবার একদিকে যেমন হাইকোর্টে বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে শুনানি হয়েছে, অন্যদিকে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসেছে কংগ্রেস পরিষদীয় দল। এদিন সকালে জানা যায়, নিজের পক্ষের বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট। এর ফলে নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, খুব শীঘ্রই বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পেতে গেলে চাই ১০১ টি আসন। গেহলোটের পক্ষে আছেন ১০৩ জন বিধায়ক। গত সপ্তাহের সোমবার থেকে তাঁরা আছেন জয়পুরের ফেয়ারমন্ট হোটেলে। সেখানেই এদিন বেলা ১১ টায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক বসে।
পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা ডিসকোয়ালিফাই হলে সুবিধা হবে গেহলোটের। বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা অনেক কমে আসবে। আপাতত পাইলটের শিবিরে আছেন ১৯ জন বিধায়ক। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭২। বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনে পড়বেন গেহলোট।
সোমবার শচীনের হয়ে হাইকোর্টে বক্তব্য পেশ করেন আইনজীবী হরিশ সালভে। তিনি বলেন, কোনও দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে কেউ যদি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, স্পিকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। রাজস্থানের স্পিকার যেভাবে কয়েকজন বিধায়ককে নোটিস দিয়েছেন তাতে তাঁদের বাকস্বাধীনতা খর্ব হয়েছে।
স্পিকার সি পি যোশির হয়ে সওয়াল করেন কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, স্পিকারের কার্যকলাপ নিয়ে বিদ্রোহীদের হাইকোর্টে আসার অধিকার নেই। স্পিকার এখনও তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। তার আগেই কীভাবে বিদ্রোহীরা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। তাছাড়া স্পিকার বা বিধানসভার কার্যকলাপে বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপও করতে পারে না।