দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পালানিয়াপ্পান চিদম্বরমের জামিন নিয়ে বুধবারই শুনানি সর্বোচ্চ আদালতে। আইএনএক্স মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে, সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সর্বোচ্চ আদালতে গেছেন চিদম্বরম। দুর্নীতিদমন শাখা (ইডি) তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছে।
দেশের প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ নেওয়ার পরই বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, এই জামিনের শুনানি উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠাতে।
বরিষ্ঠ আইনজীবী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কপিল সিবাল আবেদন করেন, যাতে দ্রুত এই মামলার শুনানি হয়, কারণ ৯০ দিন ধরে কারাবন্দি রয়েছেন চিদম্বরম। তিনি বিচারপতি জিআর গাভাই ও বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এ কথা বলেন। তখনই তাঁকে ওই বেঞ্চ জানিয়ে দেয় যে, মঙ্গলবার বা বুধবারে শুনানি হতে পারে।
আইএনএক্স মিডিয়া থেকে ঘুষ নেওয়ার ক্ষেত্রে চিদম্বরমকেই পাণ্ডা বলে অভিযোগ করেছে ইডি। যদিও কংগ্রেস মনে করে, প্রতিহিংসার রাজনীতিই করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সেই জন্যই তাঁকে বন্দি করা হয়েছে।
২১ অগস্ট সিবিআই চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি তিহাড় জেলে ছিলেন। পরে টাকা তছরুপের মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট তাঁকে গ্রেফতার করে। তিনি এখন ইডির হেপাজতে আছেন।
আইএনএক্স মিডিয়াকে বেআইনিভাবে বিদেশি বিনিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে বন্দি আছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। সেই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন ইন্দ্রাণী। আইএনএক্স মামলায় সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে আছে ইন্দ্রাণীর নাম। কিন্তু সিবিআই জানিয়েছে, তাঁর বিচার হবে না। তাঁকে ক্ষমা করা হয়েছে।
চিদম্বরম ও তাঁর ছেলে কার্তির বিরুদ্ধে আইএনএক্স মামলায় রাজসাক্ষী হতে চেয়ে ইন্দ্রাণী আদালতে আবেদন করেছিলেন। গত জুলাই মাসে দিল্লি কোর্ট তাঁর আবেদন গ্রহণ করে। সিবিআই জানিয়েছে, চিদম্বরমের বিরুদ্ধে মামলায় ইন্দ্রাণী গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
ইন্দ্রাণী ও তাঁর স্বামী পিটার মুখার্জি আইএনএক্স মিডিয়া তৈরি করেন। অভিযোগ, ২০০৮ সালে তিনি চিদম্বরম ও তাঁর ছেলে কার্তিকে ঘুষ দিয়েছিলেন। বিনিময়ে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম তাঁকে বিদেশি বিনিয়োগ পাইয়ে দেন।
ইন্দ্রাণী সিবিআইকে জানিয়েছেন, তিনি চিদম্বরমকে ৫০ লক্ষ ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন। সে অর্থ জমা হয়েছিল বিদেশের ব্যাঙ্কে। চিদম্বরম অবশ্য বলেছেন, তিনি কখনও ইন্দ্রাণীর সঙ্গে দেখা করেননি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছে।