
শেষ আপডেট: 18 April 2023 05:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কান পাতলেই সাইরেনের আওয়াজ। চারদিকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, গোলাগুলি চলছে অনবরত (Sudan Crisis)। দাউদাউ করে জ্বলছে বাড়িঘর, দোকানপাট। রাস্তার চারদিকে ইতস্তত ছড়ানো মৃতদেহ। সুদানে যুদ্ধের দামামা বেজেছে। সেনা ও আধাসেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। জখম অন্তত ১৮০০। দেশে খাদ্য এবং জরুরি প্রয়োজনের জিনিসেরও সংকট শুরু হয়েছে৷ হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের থেকে অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরেই সুদানে আধাসামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স’(আরএসএফ)-এর সঙ্গে সেনার সংঘাত শুরু হয়েছিল। এর পর তা হিংসাত্মক চেহারা নেয়। শুক্রবার সেনাবাহিনী হামলা চালায় খার্তুমের আরএসএফ সদর দফতরে। তারপরই অশান্তি আরও বাড়ে। এখন খার্তুম ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রক্তাক্ত অবস্থা. হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। আরএসএফের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সেনাপ্রধানের বাসভবন, দেশের জাতীয় টেলিভিশন সম্প্রচার সংস্থার দফতর এবং খারতুমের বিমানবন্দরের দখল নিয়েছে।

২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের ফলেই সুদানে শাসন ক্ষমতার হাত বদল হয়েছিল৷ সেই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন দেশের সেনাপ্রধান আবদেল ফতাহ আল বুরহান এবং তাঁর ডেপুটি মহম্মদ হামদান ডাগলো। এই ডাগলো ছিলেন সুদানের শক্তিশালী আধা সামরিক বাহিনী আরএসএফের অন্যতম শীর্ষ নেতা। আবদেল ফতাহ ও ডাগলো কার হাতে থাকবে ক্ষমতার রাশ সেই নিয়েই গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেছে সুদানে।
ইতিমধ্যেই দেখা গেছে, সেনাপ্রধান বুরহানের খার্তুমের বাড়ির সামনে গোলাগুলি চলেছে। লোকজনকে ছুটে পালাতেও দেখা গেছে। রাস্তাঘাটে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও যুদ্ধট্যাঙ্ক, ভারী অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ঘুরছে যুযুধান দুই পক্ষ। আরএসএফ দাবি করেছে, খার্তুম বিমানবন্দরটি তাদের দখলে চলে এসেছে। অন্যদিকে, সুদানের সেনাবাহিনীর প্রধান আবদেল ফতেহ আল বুরহান জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি ফের প্রেসিডেন্টের বাসভবনের দখল নেবে সেনাবাহিনী।
এমনিতে সুদানে গৃহযুদ্ধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার দেশের দুই নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তা নজিরবিহীন। এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের। ইতিমধ্যেই সংঘর্ষে লাগাম টানতে কূটনৈতিক স্তরে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।