
কালনার সাঁতারু সায়নী দাস
শেষ আপডেট: 20 April 2025 19:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব সাঁতার মানচিত্রে উজ্জ্বল হল আর এক ভারতীয় নাম। ষষ্ঠ সমুদ্রপথ পেরিয়ে জিব্রালটার চ্যানেল জয় করলেন কালনার সাঁতারু সায়নী দাস। ‘ওশেন সেভেন’-এর লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক সাফল্য তাঁকে নিয়ে এল এক ধাপ এগিয়ে। শুক্রবার (ভারতীয় সময় বিকেল ৪.৪৫-এ) স্পেনে ১৫.২ কিলোমিটার দীর্ঘ জিব্রালটার প্রণালীতে সাঁতার শুরু করেন সায়নী। মাত্র ৩ ঘণ্টা ৫১ মিনিটে তিনি সম্পূর্ণ করেন এই প্রতিযোগিতা। এর মাধ্যমে সায়নী হয়ে উঠলেন এশিয়ার প্রথম মহিলা সাঁতারু, যিনি ‘ওশেন সেভেন’-এর ছ’টি সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছেন। এখন শুধু বাকি জাপানের সুগারু চ্যানেল। সেটিও জয় করলেই তাঁর নাম যুক্ত হবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাঁতারুদের তালিকায়।
জলের পথে সায়নীর এই জয়যাত্রা অবশ্য আজকের নয়। ইতিমধ্যে তিনি অতিক্রম করেছেন রটনেষ্ট, ক্যাটালিনা, ইংলিশ চ্যানেল, মালোকাই, কুক স্ট্রেইট এবং নর্থ চ্যানেল। তাঁর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য মালোকাই জয়, যা তাঁকে প্রথম এশীয় মহিলা সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা শহরের বারুইপাড়ায় জন্ম সায়নীর। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রাধেশ্যাম দাস এবং রূপালী দেবীর একমাত্র কন্যা সায়নী ছোট থেকেই জলে সাবলীল। বাবার অনুপ্রেরণাতেই শুরু সাঁতার, পরে কঠিন অনুশীলন আর নিরবচ্ছিন্ন অধ্যবসায়ে গড়ে তুলেছেন নিজেকে। এই অভিযানে তাঁর পাশে ছিলেন দ্রোণাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক তপন কুমার পানিগ্রাহী। এই অসামান্য কীর্তির পর সায়নী বলেন, “ষষ্ঠ সমুদ্রপথ জয় করতে পেরে গর্বিত। ভারতের জাতীয় পতাকা বিদেশের মাটিতে ওড়াতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে তাঁকে ‘খেলশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ‘মাদার টেরিজা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’, এবং তেরজন নোরগে ন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ড— যা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে গ্রহণ করেন তিনি। সায়নীর এই জয়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে তাঁর শহর কালনা। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা আয়োজন করছেন অভিনন্দনের অনুষ্ঠানের। আগামী দিনে তাঁর লক্ষ্য একটাই— সুগারু চ্যানেল জয় করে ওশেন সেভেন সাঁতারু হিসেবে বিশ্বসেরা তালিকায় জায়গা করে নেওয়া।