দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে রাজস্থানের স্পিকার সি পি যোশির সঙ্গে লড়াই হয়েছে বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলটের। কিন্তু বুধবার স্পিকারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন শচীন। এদিন তিনি হিন্দিতে টুইট করেছেন, "স্পিকার সি পি যোশিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।"
শচীন ও তাঁর অনুগামী ১৮ জন বিধায়ককে ডিসকোয়ালিফিকেশনের নোটিশ পাঠিয়েছিলেন স্পিকার। তার বিরুদ্ধে শচীনরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট এখনও এসম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শোনায়নি।
স্পিকারের বক্তব্য ছিল, বিদ্রোহী ১৯ জন বিধায়ক কংগ্রেসের দু'টি বৈঠকে উপস্থিত হননি। এর অর্থ তাঁরা দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন। এই অবস্থায় তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা উচিত। বিদ্রোহীরা এই নোটিসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গেলে স্পিকার তার বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। তিনি আবেদন করেন, শীর্ষ আদালত যেন হাইকোর্টকে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে বারণ করে। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আর্জি নাকচ করে বলে, কাউকে জোর করে চুপ করিয়ে দেওয়া যায় না। নিজের ক্ষোভের কথা জানানোর অধিকার সকলেরই আছে। গত সোমবার স্পিকার সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা তুলে নেন।
শচীন পাইলট বিদ্রোহ করার পর থেকে টালমাটাল চলছে রাজস্থানের রাজনীতিতে। শচীনের পক্ষে আছেন ১৮ জন বিধায়ক। ২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যতজন বিধায়ক দরকার, তার চেয়ে মাত্র একজন বেশি আছেন গেহলোটের পক্ষে। তিনি চেয়েছিলেন, দ্রুত বিধানসভার অধিবেশন বসুক। সেখানে তিনি গরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। অধিবেশন ডাকার জন্য তিনি দু'বার রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছিলেন। প্রথমবার রাজ্যপাল সরাসরি অনুরোধ নাকচ করে দেন। দ্বিতীয়বার তিনি বলেন, কয়েকটি শর্ত মানলে অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। যদিও ওই শর্তগুলি গেহলোটের পক্ষে মানা সম্ভব হবে কিনা এখনও জানা যায়নি।
এর মধ্যে গেহলোটের বিরুদ্ধে তৎপর হয়েছেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। রাজস্থানে দলের ছয় বিধায়কের উদ্দেশে তিনি হুইপ জারি করেছেন, তাঁরা যেন আস্থাভোটে গেহলোট সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেন। ওই ছয় বিএসপি বিধায়ক অবশ্য গত সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু বিজেপির বক্তব্য, তাঁরা ওইভাবে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন না। কারণ বিএসপি এবং কংগ্রেস, দু'টিই জাতীয় দল। একমাত্র জাতীয় স্তরে দুই দলের ঐক্য হতে পারে।