দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার জম্মু-কাশ্মীরে জেলা পরিষদ ভোটের ফলাফল জানা যায়। তাতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার নেতৃত্বে গুপকার জোট। কিন্তু একক বৃহত্তম দল হয়েছে বিজেপি। এরপর এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেন, বিজেপি যেভাবে একক বৃহত্তম দল হয়েছে, তাতে গালে সজোরে থাপ্পড় খেয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিরা। কাশ্মীরের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপরে আস্থা রেখেছেন। গুপকার জোটের কোনও দলই এককভাবে বিজেপির ধারেকাছে আসতে পারেনি। তাই তারা জোট বেঁধেছিল।
জম্মু-কাশ্মীরে জেলা উন্নয়ন পরিষদের ভোটের সর্বশেষ ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, বিজেপি পেয়েছে ৭৪ টি আসন। ফারুকের ন্যাশনাল কনফারেন্স পেয়েছে ৬৭ টি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির পিডিপি পেয়েছে ২৭ টি ও কংগ্রেস পেয়েছে ২৬ টি। গুপকার জোট পেয়েছে মোট ১১০ টি আসন।
রবিশংকর প্রসাদ এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, "বিজেপি ভোট পেয়েছে সাড়ে চার লক্ষের বেশি। অর্থাৎ ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি ও কংগ্রেস যৌথভাবে যত ভোট পেয়েছে, বিজেপি একা পেয়েছে তার থেকে বেশি।" কাশ্মীরে এবার ৩৯ জন নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। রবিশংকর প্রসাদের দাবি, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই জয়ী হয়েছেন বিজেপির সমর্থনে।
এদিন বিজেপিকে জবাব দিয়ে পাল্টা টুইট করেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা। তিনি টুইটারে লিখেছেন, "মজার ব্যাপার হল, গতকাল বিজেপি উপত্যকায় তিনটি আসন পাওয়া নিয়ে গর্ব করেছিল। আজ তারা একক বৃহত্তম দল হওয়া নিয়ে গর্ব করছে। তারা যে কথা চেপে যাচ্ছে, তা হল, ন্যাশনাল কনফারেন্সের তুলনায় অনেক বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপি।"
সংবিধানের ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার জন্য জম্মু-কাশ্মীরের মূলস্রোতের দলগুলি তৈরি করেছিল গুপকার জোট। তাতে ফারুক আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্স, অপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সহ বেশ কয়েকটি দল রয়েছে।
যে ২০ টি জেলায় ভোট হয়েছে, তাঁর প্রতিটিতে আছে ১৪ টি করে আসন। ২৫ দিন ধরে আটটি পর্যায়ে ভোট হয়েছিল। অল্প কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ আসনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। জম্মুতে ৭১ টি আসন পেয়েছে বিজেপি। যে ছ'টি জেলা উন্নয়ন পরিষদে তারা জয়ী হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে জম্মু, উধমপুর, সাম্বা, কাঠুয়া রেসাই এবং ডোডা। ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেস জিতেছে পুঞ্চ, রাজৌরি, কিস্তওয়ার এবং রামবান জেলার ৪৫ টি আসনে।