
সুবীরেশ ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 4 April 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) আরও এক অভিযুক্ত জামিনের আশায় গেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। তবে আপাতত স্বস্তি পাচ্ছেন না সুবীরেশ ভট্টাচার্য (Subiresh Bhattacharya)। সূত্রের খবর, এখন তাঁকে জেলেই থাকতে হবে কারণ শীর্ষ আদালতে জামিন সংক্রান্ত শুনানি হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টে এর আগে জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। লাভ হয়নি। সুবীরেশের আবেদন নাকচ করেছিল আদালত। তারপরই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখান থেকেও এখনও সম্পূর্ণ স্বস্তি পেলেন না সুবীরেশ।
২০২২ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন সুবীরেশকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তাঁরা দাবি করেছিল, যে সময়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই সময়ে সুবীরেশই এসএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন। আর এই দুর্নীতিতে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাদের এও দাবি ছিল, এসএসসির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তাঁর প্রভাব ছিল যথেষ্ট। সে কারণে সুবীরেশ যখনই জামিনের আবেদন করেছেন, তখনই আপত্তি জানিয়েছে সিবিআই।
কলকাতা হাইকোর্টে কোনও সুরাহা না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, একই মামলায় অন্য অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। তাহলে তাঁর মক্কেলের কেন জামিন হবে না? এই আবেদনের ভিত্তিতে সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার তার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে সূত্র মারফৎ জানা গেছে, তিন সপ্তাহের জন্য শুনানি পিছিয়ে গেছে। এতএব জামিন ভাগ্য এখনও ঝুলে সুবীরেশের।
নিয়োগ মামলায় অন্য অনেকেই জামিন পেলেও সুবীরেশের মতো এখনও জামিন পাননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি সম্প্রতি আদালতে আবেদন জানিয়েছেন যে কোন শর্তে জামিন দেওয়ার। সুবীরেশের বিরুদ্ধে নম্বর কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। আর পার্থকে তো দুর্নীতির 'মাস্টারমাইন্ড' বলা হচ্ছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর তৎকালীন অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) আদালতে দেওয়া গোপন জবানবন্দিতে বলেছিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই সে সময় ওএমআর শিটের নথি নষ্ট করা হয়েছিল।
ইতিমধ্যে আবার গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রীর জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য এবং আর এক আত্মীয়। এমনকী নিয়োগ মামলায় রাজসাক্ষীও হয়েছেন পার্থর জামাই। তাঁরা এই দুর্নীতির 'মাস্টারমাইন্ড' বলেছেন তাঁকে। পার্থর আইনজীবীর অবশ্য বক্তব্য, দীর্ঘ দিন ধরে বিনা কারণে হেফাজতে রাখা হয়েছে তাঁর মক্কেলকে। একই অভিযোগে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁকে ছাড়া হচ্ছে না জামিনে। অথচ এখনও সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় না।