দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ের দশকে গোটা দেশে রামশিলা পুজো হয়েছিল। অযোধ্যার রামমন্দির আন্দোলন তখন তুঙ্গে। গোটা দেশ থেকে লাখ লাখ 'রাম' নাম লেখা ইট গিয়েছিল অযোধ্যায়। সেখানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের করসেবকপুরমে এখনও রাখা রয়েছে সেই সব ইট। কিন্তু এখন যখন সত্যিই রামমন্দির নির্মাণ শুরু হচ্ছে তখন জানানো হল, ইট নয়, শুধু পাথর দিয়েই তৈরি হবে মন্দির। সেই নির্মাণে লোহার ব্যবহারও থাকবে না। তার বদল থাকবে তামার পাত।
আরও পড়ুন
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের পরেই শুরু হয় জমি সমান করার কাজ। গত ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে হয় ভূমি পুজো। এর পরেই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাস্টের পক্ষে জানানো হয়েছে, মন্দির তৈরি করতে মোটামুটি তিন বছর সময় লাগবে। ৩৬ থেকে ৪০ মাসের মধ্যেই ভারতের প্রাচীন ও সনাতন স্থাপত্যের নিদর্শন বজায় রেখে মন্দির নির্মাণ হয়ে যাবে।
মন্দির যাতে শত শত বছর অক্ষত থাকে তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট। বলা হয়েছে, এমন ভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে ঝড়, ভূমিকম্প বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মন্দিরের ক্ষতি করতে না পারে। কোনও রকম লোহা ব্যবহারই করা হবে না। তামা আর পাথর দিয়েই তৈরি হবে মন্দির। ট্রাস্টের পক্ষে টুইট করে জানানো হয়েছে, "রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, আইআইটি চেন্নাই এবং এল অ্যান্ড টি সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এখন মাটি পরীক্ষার কাজ করছেন। মনে করা হচ্ছে, ৩৬ থেকে ৪০ মাসের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা যাবে।"
ট্রাস্ট আরও জানিয়েছে, পাথরের ব্লক দিয়ে তৈরি হবে মন্দির। আর প্রতিটি ব্লকের মাঝে থাকবে তামার পাত। যাতে এই মন্দির কমপক্ষে এক হাজার বছর টিকে থাকে। দেশের রামভক্তদের কাছে সেই কারণে তামার পাত দান করারও আর্জি জানিয়েছে ট্রাস্ট। বলা হয়েছে ১৮ ইঞ্চি লম্বা, ৩০ মিলিমিটার চওড়া এবং ৩ মিলিমিটার পুরু দশ হাজার তামার পাত প্রয়োজন। যাঁরা দান করতে চান তাঁদের এই মাপের তামার পাত পাঠাতে হবে। এটাও বলা হয়েছে যে, দান করা তামার পাতে কেউ চাইলে পরিবারের নাম, ঠিকানা, গোত্র সব খোদাই করে দিতে পারেন। ট্রাস্টের বক্তব্য, এটা করা হলে দেশের ঐক্য যেমন রক্ষা পাবে তেমনই গোটা ভারতের অংশগ্রহণ থাকবে মন্দির নির্মাণে।
বুধবারই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই জানান, ইতিমধ্যেই যে কাজ শুরু হয়েছে তাতে তিনি খুশি। এই মন্দির যাতে কমপক্ষে হাজার বছর অক্ষত থাকে সেটা নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণকারী সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো সেরা কর্মীদের কাজে লাগিয়েছে। একই সঙ্গে রাই জানিয়েছেন, সম্প্রতি জমি খোঁড়ার সময়ে পুরনো সৌধের জায়গা থেকেই একটি ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি মাপের শিবলিঙ্গ পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ওই জমির তলা থেকে প্রাচীন মন্দিরের নানা নিদর্শন ও দেবদেবীর মূর্তি মেলে বলে দাবি করা হয়।