দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেউ ইচ্ছা করলে চুপ করে থাকতেই পারেন। সংবিধান সেই অধিকার দিয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন না। তাই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা সরকার। বৃহস্পতিবার বিশেষ সিবিআই আদালতে এমনই সওয়াল করলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। চিদম্বরমকে পাঁচ দিন হেফাজতে চেয়েছে সিবিআই। অভিযুক্ত প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী নিজে এদিন আদালতে সওয়াল করার অনুমতি চান। বিচারক অনুমতি দিলে চিদম্বরম বলেন, আমাকে যা প্রশ্ন করা হয়েছিল আর আমি যা জবাব দিয়েছি, সব দেখুন। এমন কোনও প্রশ্ন নেই আমি যার উত্তর দিইনি। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিদেশে কি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে? আমি বলেছি, না নেই। আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিদেশে আপনার ছেলের কি ব্যাঙ্ক অ্যা কাউন্ট আছে। আমি বলেছি, হ্যাঁ, আছে।
চিদম্বরমের হয়ে সওয়াল করেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, বুধবার রাতে সিবিআই বলেছিল, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে জেরা করতে চায়। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুই করেনি। পরে তাঁকে মাত্র ১২ টি প্রশ্ন করা হয়েছে। সিবিআইয়ের জানা উচিত, চিদম্বরমকে কী প্রশ্ন করতে হবে। তারা এমন কয়েকটি প্রশ্ন করেছে, যার সঙ্গে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর কোনও সম্পর্কই নেই।
সিবিআইয়ের বক্তব্য, চিদম্বরমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। সেজন্যই দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে আগাম জামিন দেয়নি। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে তবেই বিপুল অঙ্কের টাকা তছরুপের কথা জানা যাবে। কপিল সিব্বল বলেন, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে জেরার জন্য মাত্র একবার ডাকা হয়েছে। এর পরে কীভাবে বলা যায়, তিনি সহযোগিতা করছেন না?
চিদম্বরমের হয়ে এদিন সওয়াল করেন কংগ্রেসের অপর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রথমবার চিদম্বরমকে ডাকা হয়। তার কয়েকমাস আগে রাজসাক্ষী ইন্দ্রাণী মুখার্জির বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কেবল কেস ডায়েরি ও এক ব্যক্তির জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে।
অভিষেক মনু সিংভির বক্তব্য, গত এক বছর ধরে চিদম্বরমকে একবারও ডাকেনি সিবিআই। আর এখন তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করেছে। কাস্টডিতে নিতে চাইছে।
https://twitter.com/ANI/status/1164505451523989505
বৃহস্পতিবার বেলা সওয়া তিনটে নাগাদ বিশেষ সিবিআই আদালতে পেশ করা হয় চিদম্বরমকে। এদিন চিদম্বরমকে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ দেখায়। আদালত চত্বরে যাতে কেউ বিক্ষোভ না দেখাতে পারে, সেজন্য সেখানে জলকামান তৈরি রাখা হয়েছে।
দুপুর আড়াইটে নাগাদ সিবিআই আদালতে পৌঁছন চিদম্বরমের স্ত্রী নলিনী চিদম্বরম ও তাঁদের ছেলে কার্তি। চিদম্বরমকে বিচারক অজয় কুমারের এজলাসে পেশ করা হয়। বুধবার রাতে তিনি নাটকীয় পরিস্থিতিতে গ্রেফতার হন। দক্ষিণ দিল্লিতে নিজের বাড়ি থেকে সিবিআই তাঁকে ধরে নিয়ে আসে। তাঁর নাগাল পাওয়ার জন্য পাঁচিল টপকে বাড়ি ঢোকেন সিবিআই অফিসাররা। রাতে তাঁকে সিবিআই বিল্ডিং-এর লক আপ স্যুইট থ্রি-তে রাখা হয়েছিল। ২০১১ সালে চিদম্বরম যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখনই ওই অফিসের উদ্বোধন হয়। চিদম্বরম তখন সেই বিল্ডিং ঘুরে দেখেছিলেন। বুধবার রাতে তাঁকে যে লক আপে রাখা হয়েছিল, তাও দেখেছিলেন।