
শেষ আপডেট: 19 January 2024 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রসে ভরা কমলা যেন রসকষহীন। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে বাজারে ছেয়েছে নাগপুরের কমলায়। দেখতে প্রায় একই কিন্তু দার্জিলিঙের কমলার স্বাদ তাতে কোথায়! ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতাদের একাংশ নাগপুরের কমলাকেই দার্জিলিঙের বলে চালানোর চেষ্টা করছেন অনেক সময়। যে গুটিকয়েক দার্জিলিঙের লেবু বিক্রি হচ্ছে তার দর চড়া। আবার কমলার মতো দেখতে কিনো নামে একধরনের ফলও কম দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। দার্জিলিঙের কমলার ফলন কমছে, তেমন রস আর নেই। উৎপাদন এতই কম যে বাঙালির ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। সেই জায়গা নিচ্ছে কমদামি কিনো। কমলার স্বাদ ও ফলন দুইই বাড়াতে তাই এবার কোমর বেঁধে নামছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।
এ বার উত্তরের বাজারে দার্জিলিং, ডুয়ার্স, ভুটানকে সরিয়ে রমরমা অপেক্ষাকৃত কম দামী নাগপুরের কমলা এবং কমলার মতো দেখতে ফল কিনোর। এই ব্যতিক্রমী চিত্রের কারণ উত্তরবঙ্গ এবং দার্জিলিঙের কমলা এ বারের বাজারে এক রকম অমিল। কারণ ফলন হয়েছে খুবই কম। ফলে আমজনতা শীতকালে নাগপুরের কমলা আর কিনো খেয়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছেন।ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে, এ বার দার্জিলিঙে অন্য বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশ কম ফলন হয়েছে। ফলে এ সময় যে কমলায় বাজার ছেয়ে যেত সে কমলা বাজারে নেই।
কিন্তু কেন ফলন কমছে? দার্জিলিঙের কমলা হল মান্দারিন প্রজাতির। চাষিরা বলছেন, , ভাইরাস, ও ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি ফাঙ্গাস সংক্রমণের কারণে ফলন কমছে। কী রোগ হচ্ছে তা ধরতেই গবেষণা শুরু করেছেন আমেরিকার ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বে বিভিন্ন প্রান্তের মতোই রোগের প্রাদুর্ভাবে ধাক্কা খেয়েছে উত্তরবঙ্গের কমলালেবুর উৎপাদন। সেই রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি সার্বিক ভাবে এই ফল চাষের উন্নতি ও তা থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের দিকে তাই জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে উদ্যান পালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এবার কমলার উৎপাদন বাড়াতে এগিয়ে এসেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরাও। তাঁরা বলছেন, কমলালেবু গাছে রোগ (ডাইব্যাক) বাসা বাধায় সাম্প্রতিককালে তার উৎপাদন কমেছে ।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর সূত্রের খবর, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে তাদের পৃথক ডিরেক্টরেট-এর অধীনে ১৫টি ডিভিশনের আওতায় ২৭১ একর জমিতে কমলালেবুর চাষ হয়। এ ছাড়াও বেসরকারি ভাবে উত্তরবঙ্গের আরও অনেকেই এতে যুক্ত। রোগের সমস্যা শুধু সেখানে নয়, বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটছে। তবে সার্বিক ভাবে উত্তরবঙ্গে সব মিলিয়ে কত কমলালেবু গাছ রয়েছে, কত জন চাষি যুক্ত, কী ধরনের রোগ বা সমস্যা হয়, এ সব নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করা যায় কি না সেই আলোচনা চলছে। সে ক্ষেত্রে চাষিদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি জোর দেওয়া হবে খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলাতেও।