দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিএএ, এনআরসি নিয়ে বারবারই বিতর্ক ঘনিয়েছে বিজেপির অন্দরেই। সেই বিতর্ক আরও উস্কে দিয়ে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের দিনেই পদত্যাগ করলেন ইন্দোরের বিজেপি কাউন্সিলর উসমান প্যাটেল। তাঁর অভিযোগ, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে একটা সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, বিজেপি এখন মুখ্য ইস্যুগুলো থেকে সরে এসে কেবল সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করছে।
পদত্যাগ করার পরেই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন উসমান প্যাটেল। তিনি বলেছেন, দেশের জিডিপি ক্রমেই নিম্নগামী। জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বেহাল দশা। কিন্তু এসবের মধ্যেও ঘৃণার রাজনীতি করে চলেছে বিজেপি। তারা এমন এক আইনের পেছনে পড়ে রয়েছে, যাতে সমস্ত ধর্মের মানুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
উসমান পটেলের এই পদত্যাগ ও তার পরবর্তী বক্তব্যে স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তি বাড়ল গেরুয়া শিবিরে। তার উপর এটা এমন এক দিন ঘটল, যেদিন বিধানসভা নির্বাচন চলছে রাজধানীতে।
ইন্দোরের খজরানা এলাকার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উসমান পদত্যাগ ঘোষণার পরে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে তিনি বলেন, "আমি অটলবিহারী বাজপেয়ীর অনুপ্রেরণায় এই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমি বিজেপির কাজে নিরাশ। কারণ তাদের আনা আইনে দেশে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এনপিআর, এনআরসি, সিএএ মুসলিম-বিরোধী, সংবিধান-বিরোধী। এই কারণে আমি দল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। যাঁরা এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, আমি তাঁদের সঙ্গে আছি।"
উসমান আরও জানিয়েছেন, তিনি হঠাৎ করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আগে ভাল করে জেনেছেন। সবটা জানার পরেই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, এই আইন মুসলিম-বিরোধী এবং সংবিধান-বিরোধী। দেশের সর্বধর্মসমন্বয়ের ঐতিহ্য এই আইনে আহত হবে। এটা নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁর মনে হয়েছে এই বিভাজনের রাজনীতি কাম্য নয়।
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও সিএএ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেছেন মধ্যপ্রদেশের ৮০ জন মুসলমান নেতা। নাগরিকত্ব আইনকে ‘বিভেদের হাতিয়ার’ বলে দাবি করেছেন সেই বিজেপিত্যাগী সংখ্যালঘু নেতারা। সেই পথেই এবার হাঁটলেন উসমান পটেল।
এমনিতেই দেশজুড়ে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-অবস্থান চলছে। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ সামাল দিতে কার্যত ব্যর্থ প্রশাসন। এই অবস্থায় দলের অন্দরেই যদি এমন ভাঙন শুরু হয় তবে যে তা বিজেপির পক্ষে খুব স্বস্তিকর হবে না, তা বলাই বাহুল্য।