আরও স্বস্তির খবর হল - রাজ্যে নতুন করে নিপা আক্রান্তের খোঁজও মেলেনি। এদিকে, যারা আক্রান্ত তাঁদের চিকিৎসার জন্য দাদরা থেকে বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আনা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বিকেলে বাংলায় (West Bengal Nipah Virus) নিপা ভাইরাসে (Nipah Virus) আক্রান্ত দু’জনের খোঁজ মিলতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তৎপরতা শুরু হয়। আক্রান্ত দু’জনই বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিপার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রও সক্রিয় হয়। রাজ্য সরকারকে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে ফোনে কথা বলে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য দফতর (West Bengal Health Dept) সূত্রে জানা গেছে, নিপায় আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। তাঁর ট্র্যাকিওস্টমি করা হয়েছে। অন্য নার্সের জ্ঞান ফিরেছে এবং তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকেও সরানো হয়েছে। নতুন করে কারও অবস্থার অবনতি হয়নি বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এর পাশাপাশি আরও স্বস্তির খবর হল - রাজ্যে নতুন করে নিপা আক্রান্তের খোঁজও (No New Nipah Cases in West Bengal) মেলেনি। এদিকে, যারা আক্রান্ত তাঁদের চিকিৎসার জন্য দাদরা থেকে বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আনা হয়েছে।
বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই নার্সের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে। রিপোর্টে তাঁদের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। প্রথম দিকে দু’জনের অবস্থাই অত্যন্ত সঙ্কটজনক ছিল এবং ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা চলছিল। তবে গত দু’দিনে একজনের সামান্য উন্নতি হয়েছে। অন্যজনের অবস্থাও স্থিতিশীল রয়েছে।
কীভাবে সংক্রমণ, তা নিয়ে প্রশ্ন
প্রাথমিক তদন্তে সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দু’টি বিষয় সামনে এসেছে। একদিকে নদিয়া জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে যাতায়াত এবং অন্যদিকে টানা দু’দিন একসঙ্গে নাইট ডিউটি। কেন্দ্রীয় টিমের ১১ পাতার প্রাথমিক রিপোর্টে এই দু’টি বিষয় নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি।
সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা
সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। নিপা আক্রান্ত ওই নার্সের সংস্পর্শে আসা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এক হাউসস্টাফ ও এক নার্সের শরীরে হালকা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাঁদের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২৪ বছরের ওই হাউসস্টাফ দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাসিন্দা। এতদিন তিনি বাড়িতেই কোয়ারান্টিনে ছিলেন।
দু’জনেরই সর্দি-কাশির মতো হালকা উপসর্গ রয়েছে। তবে নিপা সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ এমনই হওয়ায় ঝুঁকি না নিয়ে তাঁদের আইডি হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
কেন এত ভয়ঙ্কর নিপা
চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তদের মধ্যে গড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এই হার ইবোলার থেকেও বেশি এবং করোনার তুলনায় বহু গুণ ভয়ঙ্কর। যদিও প্রাথমিক উপসর্গ করোনার মতো হলেও সংক্রমণের ধরন ও ঝুঁকির দিক থেকে নিপা সম্পূর্ণ আলাদা।
নিপা একটি প্রমাণিত জুনোটিক ভাইরাস - অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। ১৯৯৯ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাসের নামকরণ মালয়েশিয়ার সুনগাই নিপা গ্রামের নামে। ফলখেকো বাদুড়কে এই ভাইরাসের প্রধান বাহক বলে মনে করা হয়। শুয়োর, কুকুর, বিড়াল ও ঘোড়ার মাধ্যমেও সংক্রমণের নজির রয়েছে।
অন্যদিকে, কোভিড-১৯ বা সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের উৎস নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সেই তুলনায় নিপার উৎস ও সংক্রমণপথ অনেক বেশি স্পষ্ট - আর সেই কারণেই এই ভাইরাসকে ঘিরে স্বাস্থ্য মহলের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।