
শেষ আপডেট: 14 February 2023 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়
সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয়
একথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে
সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়।'
শঙ্খ ঘোষ সেই কবেই লিখে গিয়েছিলেন। হাতের উপর হাত যাঁরা একবার রেখেছেন, তাঁরা সত্যিই জানেন, ভালবাসার মানুষটিকে আজীবন একইভাবে প্রেমের বাঁধনে বেঁধে রাখা সোজা নয়। এ শহরে প্রেম যেমন হয়, বিচ্ছেদও হয় ভুরি ভুরি। তার মধ্যেও টিকে যায় কিছু প্রেম। হাজার চড়াই-উৎরাই পেরিয়েও একসঙ্গে থেকে যান তাঁরা, কোনও ঝড়েই আলগা হয় না পরস্পরকে ধরে রাখা হাতের মুঠো।
বছর দেড়েক আগে এক বসন্তের বিকেলে ২০ বছরের স্বপন সূত্রধর হাত ধরেছিলেন ১৭ বছরের শঙ্করী সাহার (fell in love)। দুজনেই পরস্পরকে কথা দিয়েছিলেন, যা-ই হয়ে যাক না কেন, সঙ্গে থাকবেন আজীবন। উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের বাসিন্দা দুজনেই। স্বপনের একটি স্টেশনারি দোকান আছে। শঙ্করী হস্তশিল্পের সৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করেন। যে যার মতো কাজ করেন, নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ হয়, দিব্যি সুন্দর এগোচ্ছিল সম্পর্ক। তার মধ্যে হঠাৎই একদিন ঝড় উঠল স্বপনের জীবনে। ব্যবসা সংক্রান্ত একটি সমস্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে স্বপনকে।
প্রাথমিকভাবে বসিরহাট জেলে রাখা হয়েছিল স্বপনকে। প্রেমিকের দুঃসময়েও তাঁর হাত ছাড়েননি শঙ্করী। জেলে গিয়ে গত সপ্তাহে স্বপনের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন তিনি। ভ্যালেন্টাইন্স ডেতে (Valentine's Day) আবার আসবেন, কথা দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই দমদম সংশোধনাগারে (Dumdum jail) স্থানান্তরিত করা হয় স্বপনকে। শঙ্করীর অবশ্য তা জানা ছিল না। তাই রবিবার বসিরহাট জেলে গিয়ে প্রেমিকের দেখা না পেয়ে হতাশায়, দুঃখে প্রায় কেঁদে ফেলেছিলেন বর্তমানে ১৯ বছরের তরুণী। খোঁজ খবর করে জানতে পারেন, দমদম সংশোধনাগারে রয়েছেন স্বপন।
এরপর হাসনাবাদ থেকে ট্রেনে চেপে দমদমে আসেন শঙ্করী। কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে মূল ফটকের সামনে দাঁড়ানো কারারক্ষীকে স্বপনের সঙ্গে দেখা করার কথা বলতে তিনি পাত্তাই দেননি। বেশ কিছুক্ষণ অনুরোধ উপরোধেও কাজ না হওয়ায় জেলের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়েই হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করেন তরুণী। তা দেখে মায়া হওয়ায় এগিয়ে আসেন অন্য এক কারারক্ষী। তাঁকেই সব কথা খুলে বলেন শঙ্করী। রক্ষীর হাতে একটি মুখ বন্ধ খাম তুলে দেন তিনি। বলেন, যদি স্বপনের হাতে সেটা দেওয়া যায়, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই চত্বরেই ঘোরাঘুরি করে হাসনাবাদে ফেরার ট্রেন ধরেন শঙ্করী।
সোমবার সকালে জেলের পোশাকে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বন্দিরা, রোজকার মতোই চলছে রোলকল। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন ২২ বছর বয়সি স্বপন সূত্রধর। নাম ধরে ডাকা হতেই এগিয়ে এলেন তিনি। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কারারক্ষী পকেট থেকে বের করে বন্দির হাতে তুলে দিলেন একটি খাম। খুলতেই চোখে জল স্বপনের। খামের ভিতর রয়েছে একটি কার্ড, তাতে স্বহস্তে ভালবাসার চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন তাঁর প্রেমিকা। কার্ডের উপর টকটকে লাল গোলাপের ছবি, ভিতরে শঙ্করীর হাতে লেখা ছোট্ট বার্তা-ভালবাসি। সঙ্গে প্রেম দিবসে দু'লাইনের শুভেচ্ছাবার্তা।
এই বছরের ভ্যালেন্টাইন্স ডে একসঙ্গে কাটানো হয়নি শঙ্করী-স্বপনের। তবে ভালবাসা কবেই বা দূরত্ব বা পরিস্থিতির তোয়াক্কা করেছে? গারদের পিছনে থাকলেও শঙ্করীর হাত রাখা রয়েছে তাঁর হাতের উপরেই।
ভ্যালেন্টাইন্স ডে ভারতীয় সংস্কৃতি নয়! প্রতিবাদে পথকুকুরদের বিয়ে দিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠন