
শেষ আপডেট: 21 May 2023 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উদ্বোধনের পরেই এবার প্রকৃতির রোষে পড়ল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat Express)। চালু হ'বার পরেরদিনই প্রবল শিলাবৃষ্টির মাঝে পুরী থেকে হাওড়াগামী (Puri Howrah Vande Bharat) বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে বাজ পড়ে প্রবল যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। কার্যত প্রবল ঝড়বৃষ্টির মাঝে জাজপুর কেওনঝড় রোড স্টেশনের কাছে বৈতরণী নদীর লোহার ব্রিজের ওপর মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে গিয়েছে ট্রেনটি। গাছ পড়েছে ওভারহেড লাইনেও। বন্দে ভারত সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিন ইঞ্জিনে চালিত ট্রেন। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এক যাত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ট্রেনটি সঠিক সময়েই পুরী থেকে ছেড়েছিল। দেওয়া হয়েছিল দুপুরের খাবার। তখনও আবহাওয়া গুমোট ছিল। কিন্তু তারপরেই শুরু হয় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি। যাত্রীরা ততক্ষণে অনেকেই খানিক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ প্রবল শব্দে সবাই সচকিত হয়ে ওঠেন। দেখা যায়, বিকট শব্দ হতে হতে ট্রেন ক্রমশ থেমে যাচ্ছে। জাজপুর-কেওনঝড় রোড স্টেশনের আগে বৈতরণী নদীর সেতুতে প্রায় মাঝনদীর ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেনটি। সামনের অংশটুকু সৌভাগ্যবশত সেতু ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু পেছনের অংশ তখনও নদীর ওপর। গোটা ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বিকল।
যাত্রীদের তরফে পাঠানো এক ভিডিওয় দেখা যায়, অন্ধকার ট্রেনে বসে রয়েছেন যাত্রীরা। শুধু কামরার এমারজেন্সি আলোগুলো জ্বলছে। জানালার কাঁচের বাইরে বৈতরণী নদীর ওপরে সেতুর লোহার আর্ক দেখা যাচ্ছে। তবে আবহাওয়ার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যেও কোনও হতাহতের খবর নেই।
অন্য এক যাত্রী বলেন, বন্দে ভারতের দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকে। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতেই গোটা কামরা অন্ধকার হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। বন্ধ হয়ে যায় এসি। পরে খুলে দেওয়া হয় দরজা। যাত্রীরা নেমে দেখেন, বজ্রপাতে ও গাছ পড়ে কার্যত ট্রেনের সামনের অংশের কাঁচ ভেঙে গিয়েছে। প্যান্টোগ্রাফও ক্ষতিগ্রস্থ। তবে রেলের তরফে অতি দ্রুত সাহায্য পাঠানো হয়। দক্ষিণ পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক আদিত্য চৌধুরি বলেন, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দল ও ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো হয়েছে। দ্রুত মেরামতি করে ট্রেনটিকে হাওড়ার দিকে রওনা করিয়ে দেওয়া হবে।