দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: লিলুয়ায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক টানাপড়েন। গুলি চালানোর ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের হাওড়া আদালতে পেশ করা হয়। তবে অন্যতম অভিযুক্ত আকাশ সিং এখনও ফেরার।
রবিবার মারা যান লিলুয়া সি রোডের বাসিন্দা তৃণমূল নেতা সন্তোষ মুখিয়া। সোমবার তাঁর সৎকারের সময় দুই দলের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় উত্তর হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকার বাঁধাঘাট শ্মশান। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ট কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধায়ক নিজে ঘটনাস্থলে যান। পৌঁছয় গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।
মারধরে জখম রাহুল সিং নামে বিধায়ক ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর বদলা নিতে ওইদিন সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী লিলুয়া সি রোডে গিয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পৌঁছয় লিলুয়া থানার পুলিশ। বেপরোয়া দুষ্কৃতীরা পুলিশের সামনেই বোমাবাজি করে ও গুলি চালায়। দুষ্কৃতীদের চালানো গুলি পায়ে লাগে সাব ইন্সপেক্টর সুমন ঘোষের। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। উত্তর হাওড়ার বিজেপি নেতা উমেশ রাই বলেন, ‘‘তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা। যারা গুলি চালিয়েছে তাদের মধ্যে আকাশ সিং নামে এক দুষ্কৃতী রয়েছে। সে বিধায়কের ঘনিষ্ঠ।’’ বিধায়ক গৌতম চৌধুরী অবশ্য বিজেপির আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘যারা শ্মশান ঘাট ও সি রোডে ঝামেলা করেছে তারা সবাই দুষ্কৃতী। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। শ্মশান ঘাটে গন্ডগোলের সময় আমি ন গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেত। পুলিশ আইনমাফিক ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের গ্রেফতার করবে।’’ আকাশ সিং এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে সাব ইন্সপেক্টর সুমন ঘোষ এখন পুরোপুরি সঙ্কটমুক্ত নন বলে জানা গেছে।
তাঁর উপর হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম অনিল সাউ, রাহুল রায়, বিকি সাউ ও সুরজ রায়। মঙ্গলবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। মুল অভিযুক্ত আকাশ সিং ও তার সঙ্গীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।