
শেষ আপডেট: 16 February 2023 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: এমনও হয়! স্কুলে না গিয়েই দিব্যি বেতন পাচ্ছেন শিক্ষক (Teacher)। একদিন দু’দিন নয় সাত মাস স্কুলের চৌকাঠ পেরোননি পরিমল কুমার বাইন। এতে বেতন পেতে অবশ্য দেরি হয়নি। ৫৭ বছর বয়সি ওই শিক্ষক আবার চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করার ইচ্ছেও (marriage proposal) প্রকাশ করেন। রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে নিয়োগের দাবিতে ধর্না-অবস্থান-আন্দোলনও চলছে। এরই মধ্যে নদিয়ার (Nadia) এই ঘটনা সামনে এসেছে।
কীভাবে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন? কেনই বা স্কুলে না গেলেও বেতন পাচ্ছেন?
অন্য স্কুল থেকে বদলি হয়ে ২০১৩ সালে রানাঘাটের চিনাপুকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন পরিমল কুমার বাইন। রানাঘাট-১ চক্রের অধীনে চিনাপুকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন ৮১ জন পড়ুয়া রয়েছে। এখানে যোগ দেওয়ার পর স্কুলের অন্যান্য সহকারি শিক্ষক ও মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ ওঠে। তাই তাকে আবার বদলি হতে হয়। পরিমল কুমার বাইনকে ২০১৯ সালে সরিষাডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ২০২১ সালে তিনি আবারও চিনাপুকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফেরেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রৌঢ় এই শিক্ষক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করবেন বলে সরাসরি ছাত্রীর অভিভাবকে ফোন করে প্রস্তাব দেন। ২০২২ সালের জুন মাসের এই ঘটনার পর থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা শিক্ষক পরিমলের প্রতি ক্ষুব্ধ। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত বাগচি স্কুল ইনস্পেক্টর বা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতেই পরের মাস অর্থাৎ জুলাইয়ের ৯ তারিখ পরিমল কুমার বাইনকে ওই স্কুল থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাকে অন্য কোনও স্কুলে বদলি করা হয়নি। যার ফলে তিনি রানাঘাট-১ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে নিয়মিত হাজিরা দেন। মাসের শেষে বেতনও পাচ্ছেন।
তিনি যে ওই ছাত্রীর মাকে ফোন করেছিলেন তা স্বীকার করেছেন পরিমল কুমার বাইন। তিনি বলেন, ‘তার মাকে বলেছিলাম আপনার মেয়েকে পছন্দ হয়, আমার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া যায়?’ সাত মাস ধরে স্কুলে না-গিয়ে বেতন নিতে খারাপ লাগছে না? পরিমল বলেন, “বসে বসে বেতন নেওয়া ঠিক নয়। অনেকবার আমি বলেছি ছেড়ে দিন, স্কুলে যাই। যাকে ওই প্রস্তাব দিয়েছিলাম তাদেরও কোনও আপত্তি নেই। ডিআই-কে বলেও কিছু হয়নি। এখন বসে থাকা কাজ।”
চিনাপুকুরিয়া প্রাথমিক বদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, “উনি ঠিকমত পড়াতে পারেন না এমন নয়। কিন্তু কোন ভরসায় অভিভাবকেরা ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাবেন? আবারও এমন ঘটবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। উনি সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ নন।” রানাঘাটের মহকুমা শাসক হারিস রশিদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, খোঁজ নেব। তারপরেই কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা জানিয়ে দেব।’