দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: করোনায় মৃতদের দেহ সৎকারের জন্য শ্মশান তৈরির কাজ চলছিল। তাতে আপত্তি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই নিয়েই উত্তাল হয়ে উঠল আরামবাগ। অশান্তি সামাল দিতে পুলিশ পৌঁছলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে জনতা। পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে হটিয়ে দেয় মারমুখী জনতাকে।
করোনায় মৃতদের দেহ কোথায় দাহ করা হবে তা নিয়ে বারবারই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। কারণ করোনায় মৃতের দেহ কোনও শ্মশানে দাহ করা হবে এ কথা জানাজানি হলেই বাধা আসছে স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে। ঝামেলা এড়াতে আরামবাগ পুরসভার উদ্যোগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃতদের দেহ দাহ করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করা হয়। এই বিষয়ে এসডিও অফিসে বৈঠক করা হয়। পুরসভার প্রশাসক, এসডিও এবং থানার আধিকারিকরা যৌথভাবে বৈঠক করে দ্বারকেশ্বর নদীর পারে নতুন শ্মশান করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই অনুযায়ী আরামবাগের পল্লিশ্রী এলাকায় দ্বারকেশ্বর নদের পারে কালিপুর সেতুর নীচে করোনার দেহ সৎকারের জন্য শ্মশান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। গোটা এলাকাকে টিন দিয়ে ঘিরে স্যানিটাইজ করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু মঙ্গলবার বেলায় কাজ শুরু হতেই বাধা দেন এলাকার মানুষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ।
পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে ভিড় হঠাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে এক যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময়ে সে পুলিশের গাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখনই শুরু হয়ে যায় ধস্তাধস্তি। প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধও করে জনতা। পুলিশ বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাতে কান দেননি এলাকাবাসী। ঝামেলার জেরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় র্যাফ। ঘটনাস্থল থেকে ১১জনকে আটক করে পুলিশ।