নিজের ভাবনা জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন অ্যাকাউন্ট মিহির গোস্বামীর, জল্পনা তুঙ্গে কোচবিহারে
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: দল ছাড়ার পথে কি আরও একধাপ এগোলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক মিহির গোস্বামী? সোমবার রাতে তাঁর করা ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে দলের অন্দরে।
সোমবার রাতে প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সংস্থার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফেস
শেষ আপডেট: 3 November 2020 05:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: দল ছাড়ার পথে কি আরও একধাপ এগোলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক মিহির গোস্বামী? সোমবার রাতে তাঁর করা ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে দলের অন্দরে।
সোমবার রাতে প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সংস্থার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করেন বিধায়ক। পাশাপাশি নতুন প্রোফাইল খুলে জানান দিলেন পুরোনো প্রোফাইলের সঙ্গে তাঁর আর কোনও সম্পর্ক নেই । সেগুলি যে অন্য সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাও এদিন পরিষ্কার করে দিয়েছেন মিহিরবাবু।
এখানে তিনি লেখেন, ‘‘এটি আমার পুরোপুরি নিজস্ব প্রোফাইল, নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা- মতামত ও কর্মসূচি সবাইকে জানানোর জন্য খোলা হয়েছে। বাকি যে সব পুরোনো অ্যাকাউন্ট রয়েছে সে সবই কোনও দল বা সংস্থার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সে সবের সঙ্গে আর আমার কোনও সংযোগ নেই।’’
সম্প্রতি বিজয়া করতে মিহির গোস্বামীর বাড়িতে গিয়েছিলেন কোচবিহারের বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। নিশীথের সাথে মিহিরবাবু প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন। তারপরেই জল্পনা ছড়ায় বিধায়ক কি বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন? এরপরেই তড়িঘড়ি বিধায়কের বাড়িতে রাজ্যের দুই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে পাঠান দলের রাজ্য নেতৃত্ব । কিন্তু তাঁদের সাথে দেখা হয়নি মিহিরবাবুর। বিদ্রোহী বিধায়কের বাড়ি থেকে জানানো হয় তিনি রয়েছেন আলিপুরদুয়ারে তাঁর দিদির বাড়িতে। সেখানেও যান দুই মন্ত্রী। কিন্তু সেখান থেকেও তাঁদেরকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়।
মিহিরবাবুর অবস্থান নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে তখনই বিধায়ক নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে তাঁর বক্তব্য জানানোয় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মিহিরবাবুর ফেসবুক পোস্ট দেখে পরিষ্কার যে তাঁর পূর্বের প্রোফাইল যে দল বা সংস্থা পরিচালনা করে তার (আইপ্যাক )সঙ্গে তিনি আর কোনও সম্পর্ক রাখছেন না। সোমবার রাতে মিহিরবাবুর এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

এর আগে ঠিকাদারি সংস্থা দিয়ে দল চালালে দলের সংগঠন কখনই মজবুত হতে পারে না মন্তব্য করে পিকের আইপ্যাককে বিঁধেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তিনি বলেছিলেন, ‘‘দলের সংগঠন চলে নেতা ও কর্মীদের মিলিত সিদ্ধান্তে। সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ঠিকাদার সংস্থাকে নিয়োগ করলে কখনই সংগঠন শক্তিশালী হয় না।’’
অক্টোবরের গোড়ায় তৃণমূলের জেলা ও ব্লক কমিটির তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আরও অনেক জায়গার মতো কোচবিহারেও দলের অন্দরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। জেলা কমিটি তৈরি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায় দলের বিধায়কদের মধ্যেও। বিধায়কদের মতামত ছাড়াই জেলা কমিটি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিহিরবাবু। কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত। তাই এখানকার বিধায়ক হিসেবে মিহিরবাবু যাঁদের নামের তালিকা পাঠিয়েছিলেন তাঁদের স্থান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপরেই প্রেস বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দলীয় অনুশাসন অনুযায়ী সাংগঠনিক বিষয়ে বিধায়কদের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। কেবল ব্লক কমিটি নয়, জেলা কমিটি নিয়েও বিধায়কদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা করা হয়নি। আমার মনে হচ্ছে দলে এখন আর আমার মতো মানুষ একেবারেই উপযুক্ত নয়। তাই সমস্ত সাংগঠনিক পদ থকে আমি অব্যাহতি নিলাম।’’
তখন থেকেই খবরের শিরোনামে এই কোচবিহারের বিধায়ক মিহিরবাবু। যত দিন যাচ্ছে ততই তাঁর সঙ্গে যে দলের যোগসূত্র আলগা হচ্ছে তা প্রকাশ্যে আসছে আরও।