নকীব উদ্দিন গাজী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এ সময় বায়না এসে যায় প্রতি বছর। কে কোন পাড়ায় যাবেন, শুরু হয়ে যায় হিসেবনিকেশ। সঙ্গে চলে মহড়া। এ বার মহড়া চলছে নিয়ম মেনে। তবে কোনও বায়না হয়নি এখনও। তবুও আশায় বুক বেঁধে আছেন ঢাকিরা। যদি শেষমুহূর্তেও ডাক আসে। ডায়মন্ডহারবারের হটুগঞ্জের উত্তর বেরেন্দরির ঢাকিপাড়ায় তাই সকাল সন্ধে বোল উঠছে। তবে তাতে প্রাণের স্পন্দন নেই।
একে করোনা, তায় উমফান। জোড়া ফলায় এবার নাভিশ্বাস উঠছে গোটা বছর জুড়ে। পুজো এলে অবস্থা হয়তো কিছুটা পাল্টাবে, ভেবেছিলেন ঢাকিপাড়ার বাসিন্দারা। কিন্তু করোনার জেরে এ বছরের দুর্গোৎসব যে জৌলুস হারিয়েছে। কোথাও কমিটিগুলির বাজেট কমেছে। আবার কোথাও একেবারেই বন্ধ রয়েছে পুজো। তাই কপালের ভাঁজ গাঢ় হয়েছে ঢাকিপাড়ার বাসিন্দাদের। পুজোর যে আর এক মাসও বাকি নেই। অথচ এখনও পুজোকমিটির লোকজনের আনাগোনা নেই ঢাকিপাড়ায়।
সারা বছরই দুর্গোৎসবের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন এই ঢাকিরা। পুজোর কয়েকটা দিন ঢাক বাজিয়ে যে অর্থ উপার্জন হয় সেই অর্থই বছরভর চলার জন্য একটা বড় ভরসা। সাধ-আহ্লাদ পূরণই হোক, বা সঞ্চয় যাঁর যেটুকু তা এর ভরসাতেই। পুজোর আগে পরিবারের জন্য নতুন কাপড় কেনা হয় না তাঁদের। কেনেন পুজোর পরে ঘরে ফিরে। এমনকি অগ্রিম বুকিং না হলেও ঢাকিরা কলকাতার কালীঘাট এলাকায় নিজেদের ঢাক নিয়ে পৌঁছে যান এবং সেখান থেকেই পুজো কমিটিগুলি তাদের বুকিং করে নিয়ে যায়। এ বছর করোনা আবহে তাঁরা সেই জায়গায় বসতে পারবেন কি না তাও জানা নেই।
হটুগঞ্জের ঢাকিপাড়ার বাসিন্দা ধ্রুব রুইদাস বলেন, ‘‘আগের বছরেও সাত থেকে দশ হাজার টাকা বায়না দিয়ে কলকাতায় ঢাক বাজাতে নিয়ে গেছিল পুজো কমিটিগুলি। এবারতো ওদের বাজেটই কম। আমাদের আর কী করে বায়না দেবে?’’ যদি বা ঢাক বাজাতে যাওয়াও হয় তবে কম টাকাতেই রফা করতে হবে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
তাই পুজোর গন্ধ এলেও এ বার ঢাকিপাড়ায় উচ্ছ্বাস নেই। মহড়া চলছে বটে তবে তা যেন বড় কৃত্তিম। তালবোল মাঝেমধ্যে নিজেদের কানেই অচেনা ঠেকছে।