দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে সাত দিন আগে। কিন্তু এখনও অধরা কোচবিহার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, তৃণমূল নেতা নুর আলম হোসেন। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উঠতে না পারলেও, ব্যবস্থা নিল দল।
সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রাজ্যের অনগ্রসর কল্যাণ মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জানিয়ে দিলেন, ‘‘তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খুবই মারাত্মক। দলের নীতি আদর্শের বিরোধী। সাত দিনের মধ্যে তাঁর জবাব তলব করা হয়েছে। উত্তরে সন্তুষ্ট না হলে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কারও করা হতে পারে।’’
পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এই প্রশ্নের উত্তরে বিনয়বাবু বলেন, ‘‘পুলিশের উচিত সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া। পুলিশ যাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করে তা দেখা হবে।’’
৩ মে তৃণমূলের দিনহাটা ব্লকের সভাপতি নুর আলম হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পরে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন দিনহাটার এক স্কুল শিক্ষিকা। কোচবিহার জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ পদেও রয়েছেন নুর আলম। জেলার রাজনীতিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ এবং সিতাই কেন্দ্রের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়ার ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত এই নেতা।
ওই রাতে দিনহাটা থানায় শিক্ষিকা অভিযোগ দায়ের করার পরেই জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, ঘটনাটি ঘটেছে বেশ কয়েক মাস আগে। কিন্ত হুমকিতে ভয় পেয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি তিনি। একদিন থানার অভিযোগ দায়ের করতে আসার সময় রাস্তায় নুর আলম তাঁকে মারধরও করে। তাঁর বাচ্চাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। অবশেষে মনে অনেক জোর এনে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। রবিবার থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সোমবার দিনহাটা আদালতে ওই মহিলার জবানবন্দি নেওয়া হয়। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরলেও ওই তৃণমূল নেতা এখনও অধরাই রয়ে গেছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ার পরে তৃণমূলের নেতা নুর আলম হোসেন অবশ্য দাবি করেছিলেন, চক্রান্ত করেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। এবং বিরোধী দলের লোকজন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। আইনের পথেই এর জবাব দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। এখন দলের করা শোকজের জবাব তিনি কী দেবেন সেটা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁকে শো-কজ করা হয়েছে, এই খবর পাওয়ার পর নুর আলম হোসেনের সঙ্গে অবশ্য আর যোগাযোগ করা যায়নি।