দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: লকডাউন ঘোষণার পরের দিনই পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছিলেন। ওড়িশার সুন্দরগড় থেকে। এরপর নানা ঘাত প্রতিঘাতে পার করেছেন ৩০০ কিলোমিটার। প্রায় ঘরের কাছাকাছি দিঘা গেটের কাছে পৌঁছলে দুই রাজ্যের সীমানায় আটকে দেওয়া হয় তাঁদের। টানা ৩৬ দিন ধরে সেখানেই রয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকদের ওই দলটি। দুই রাজ্যের টানাপড়েনে কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, জানেন না কেউ। আর উপায় না দেখে দলের অনেকেই এখন সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার কথা ভাবছেন।
সীমান্তে আসার পর ১৪ দিন দিঘার কাছে একটি মহাবিদ্যালয়ে বাংলার ওই ২৩ জন শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছিল ওড়িশা প্রশাসন। খাবারও দিচ্ছিল। এখন এই ২৩ জনের দায়িত্ব নিতে আর রাজি হচ্ছে না ওড়িশা সরকার। তাদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না। এদিকে এ রাজ্যের বক্তব্য কাগজপত্রের গন্ডগোলে তাঁদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা ওই শ্রমিকরা।
ক’দিন ধরে ঠিকমতো খাবার পাচ্ছেন না তাঁরা। টাকা পয়সা না থাকায় কিনে খাওয়ারও সামর্থ্য নেই। এই দলেরই এক শ্রমিক সুব্রত গায়েন বলেন, ‘‘৩৬ দিন ধরে এখানে বসে আছি। এ দিকে বাড়িতে চূড়ান্ত সমস্যায় পরিবারের লোক। শুনেছি ঝড়-জলে বাড়ির চালা উড়ে গেছে। আমি ঘরে নেই। কে ঠিক করবে? মহাজনের থেকে জমি লিজে নিয়ে চাষ করা হয়েছে। সেই জমির ফসল কেটে তোলার লোক নেই। আমি একা নয়। প্রত্যেকের বাড়িতেই এই হাল।’’
আরেক শ্রমিক শুভঙ্কর গায়েন বলেন, ঘরে ফেরানোর জন্য অনেক আবেদন-নিবেদন করেছি আমরা। কানে তুলছে না কেউ। এ বার সবাই মিলে আত্মহত্যা করব। এছাড়া আর উপায় নেই।’’
ওড়িশা প্রশাসনের পক্ষে ডেপুটি কালেক্টর গৌরব মহান্তি বলেন, ‘‘প্রথম ১৪ দিন আমরা ওদের কোয়ারেন্টাইনে রেখেছিলাম। তারপর থেকে একাধিকবার বাংলার প্রশাসনকে বলা হয় ওদের ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ওদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি।’’ ওই শ্রমিকদের খাবার কেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘খাবার আবার দেওয়া হবে।’’
তবে কাঁথির এসডিপিও অভিষেক চক্রবর্তী জানান, ওরা যে শ্রমিক সেই নথি না থাকায় ওড়িশা প্রশাসন ওঁদের আটকে দেয়। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বেশ কয়েকবার ওঁদের আনতে গিয়ে ফিরে এসেছি। এখন বলছে, দিঘা গেট দিয়ে ছাড়া হবে না। জলেশ্বরের কাছে যে গেট করা হয়েছে সেখান দিয়ে ফেরত পাঠানো হবে। সেখান থেকেও আমরা নিয়ে আসতে প্রস্তুত, কিন্তু তা নিয়েও টালবাহানা করছে।’’
দুই রাজ্যের এই টানাপড়েনের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে কবে যে যার ঘরে ফিরতে পারবেন সেই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে সুন্দরগড় ফেরত রাজ্যের এই শ্রমিকদের।