
শেষ আপডেট: 7 January 2023 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গভীর জঙ্গল। কোথাও কোথাও তো উপরের দিকে তাকালে আকাশ দেখা যায় না ঠিক করে। মাটি পর্যন্ত এসে পৌঁছায় না সূর্যকিরণ। আর সেই জঙ্গলের বুক চিরে এগিয়ে গেছে নদী। সেই নদীর উপর দিয়ে ভেসে যাওয়া নৌকায় যদি সওয়ার হন আপনি, তাহলে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারবেন। নৌকাবিহার করতে করতেই গাছের ডালে দেখা মিলবে রংবেরঙের হরেক পাখির। পাশের জঙ্গল থেকেও যেকোনো সময় বেরিয়ে আসতে পারে চিতল হরিণ, বুনো মোষ, হাতি কিংবা ভালুক!
ঠিক যেন আমাজন রেনফরেস্ট (Amazon rainforest), তাই না? আমাজনের অরণ্য অনেকেরই 'ড্রিম ডেস্টিনেশন।' কিন্তু শখ থাকলেই তো হল না। স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে চাই পকেটের জোরও, যা হয়তো অনেকেরই থাকে না। তবে তাঁদের মন খারাপের বিশেষ কারণ নেই। ঘরের কাছেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে রয়েছে এমন এক জায়গা, যেখানে জলে রাক্ষুসে পিরানহা মাছের দেখা না পেলেও নদীতে জল খেতে আসা হাতি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের দেখার অভিজ্ঞতা আমাজনের জঙ্গলে ঘোরার চেয়ে কম কিছু নয়। আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের অন্তর্গত 'সিকিয়াঝোরা' (Sikiajhora) আপনাকে আমাজন-ভ্রমণের থেকে কিছু কম আনন্দ দেবে না।

ডুয়ার্সের সিকিয়াঝোরা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত নাম বললেই চলে। অনেকের কাছেই জায়গাটি ডুয়ার্সের সুন্দরবন হিসেবেও খ্যাত। সরু সিকিয়াঝোরা নদীর নামেই পর্যটন কেন্দ্রটির নামকরণ করা হয়েছে। ২৪টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এটি পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছেন।

নদীর পাশেই রয়েছে বক্সা জঙ্গল। সেখানে ওয়াগটেল, হর্নবিল, রেডস্টারের মতো ২৮৪টি প্রজাতির পাখির পাশাপাশি রয়েছে হাতি, সম্বর ও চিতল হরিণ, ভালুক, ভাম, রেড পান্ডা, বিশালাকার কাঠবিড়ালি, বুনো মোষ, ক্লাউডেড চিতাবাঘ সহ মোট ৭৩টি প্রজাতির স্তন্যপায়ী জন্তু। এছাড়া রয়েছে ৫টি প্রজাতির উভচর প্রাণী এবং ৭৬টি প্রজাতির সাপ। সিকিয়াঝোরা নদীতে নৌকাবিহারের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই নৌকায় চড়ে যেতে যেতেই হাতির পালের নদীতে জল খেতে আসার দৃশ্য চোখে পড়ে যেতে পারে। এছাড়া নদীতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রংবেরঙের মাছ।

বক্সা জাতীয় উদ্যানের মধ্যেই রয়েছে বক্সা দুর্গ, যেখানে ইংরেজ শাসনকালে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দি করে রাখা হত। ২৬০০ বর্গফুট আয়তনের দুর্গে বন্দী ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও। সিকিয়াঝোরায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হল এই দুর্গ।

পর্যটকদের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল সিকিয়াঝোরায় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা। বর্তমানে আরও পর্যটক আকর্ষণ করার জন্য এলাকায় একটি শিশু উদ্যান তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া আরও নানা রকম বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভ্রমণ পিপাসুদের বিশ্রামের জায়গা ছাড়াও রয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ, বাঙালি খাবার ছাড়াও বিভিন্ন রকম খাবারের সম্ভার রয়েছে। ফলে ঘোরার পাশাপাশি রসনাতৃপ্তিতেও কোনও ফাঁক থাকবে না।
দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে ধাক্কা চারচাকা গাড়ির, পাহাড়ের পথে শিলিগুড়িতে মৃত্যু দুই পর্যটকের