দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস যে প্রশান্ত কিশোরের পেশাদারি সাহায্য নিচ্ছে, তা এখন প্রায় ‘ওপেন সিক্রেট’। ঘরোয়া আলোচনায় তৃণমূলের নেতারাই ‘ওপেন’ করে দিয়েছেন। দু’দিন ধরে আবার এই খবর চাউর হয়েছে, যে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরেকেও পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশান্ত।
এ হেন পরিস্থিতিতে সোমবার সংবাদমাধ্যমকে খোঁচা দিয়ে টুইট করলেন প্রশান্ত। তাতে তিনি লিখেছেন, “মজার ঘটনা হল, ইদানীং সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারছি, আমি এখন কোথায় কাজ করছি!”
অনেকের মতে, এ কথার অর্থ হতে পারে একটাই। তাঁকে নিয়ে যে আলোচনা সংবাদমাধ্যমে চলছে, তা লঘু করে দেওয়ার চেষ্টা করলেন প্রশান্ত কিশোর। বোঝাতে চাইলেন, সংবাদমাধ্যমে যা বেরোচ্ছে তা সঠিক নয়।
প্রশান্ত কিশোর পেশাদার রাজনৈতিক কৌশলী। চোদ্দ-র লোকসভা ভোটে বিজেপি-র হয়ে কাজ করেছেন। সেই থেকে তাঁর উত্থান। পরে তিনি বিহারে লালু-নীতীশ-কংগ্রেসের জোটের হয়ে কাজ করেন, কংগ্রেসের জন্যও কিছু সময় কাজ করেন। এ বার লোকসভা ভোটের সময়ে জগন্মোহন রেড্ডির দলের হয়ে কাজ করেছেন তিনি।
https://twitter.com/PrashantKishor/status/1153190271120596992
আবার লোকসভা ভোট মিটতেই তাঁকে ঘনঘন দেখা যাচ্ছে কলকাতায়। প্রশান্তকে অবশ্য ধরা ছোঁয়ার মধ্যে পাননি সাংবাদিকরা। তৃণমূল ভবনে বা নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই গাড়িতে যান। তার পরে লিফট থেকে নেমে প্রায় দৌড়ে উঠে পড়েন অভিষেকের কালো ফরচুনারে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার জন্য তাঁকে ডাকলেও, ফিরেও তাকান না তিনি।
তবে তিনি যে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন, তা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। বাংলার রাজনৈতিক মহলে যখন জল্পনা তৈরি হয়েছিল প্রশান্ত কিশোর চারশো কোটি টাকার বিনিময়ে পরামর্শ দেবেন, তখন সে ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেছিলেন, এটা ঠিক না। অনেকেই স্বেচ্ছায় শ্রম দেন, যাকে বলে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি! যদিও বিরোধীদের কাছে সে কথা বিশ্বাসযোগ্য হয়নি মোটেও।
তা ছাড়া সম্প্রতি তৃণমূলের সব জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রশান্ত। কালীঘাটে অভিষেকের অফিসে সেই বৈঠকে আলাদা করে জেলা সভাপতিদের মতামত মন দিয়ে শুনেছেন তিনি। জেলা সভাপতিদের একাংশই তা বাইরে এসে সাংবাদিকদের বলেছেন।
এখন প্রশান্ত নিজেই তাতে জল ঢালার চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু তা বাংলা-বাজারে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। বরং এ দিন বিধানসভায় কংগ্রেসের এক বর্ষীয়ান নেতা বলেন, এ সব কি চাপা থাকে? সিপিএমের মতো রেজিমেন্টেড দলেও পার্টির চিঠি গোপন থাকেনি। সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। আর তৃণমূল তো আদতে কংগ্রেসেরই শাখা নদী। কংগ্রেসের সংস্কৃতিই সেখানে বইছে-- সবেতেই উদার মনোভাব। গল্পে আড্ডায় অনেকেই সব বলে দেন। শুধু সাংবাদিকদের কাছে নয়, বিরোধীদের কাছেও।