
শেষ আপডেট: 17 May 2023 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকালে এগরার (Egra) বিস্ফোরণ স্থলে গিয়ে পুলিশ ও শাসকদলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন খাদিকুল গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। যান বিস্ফোরণ স্থলেও। তারপর সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু বলেন, “এগরা থানা এই বেআইনি বাজি কারখানা থেকে মাসকাবারি ৫০ হাজার টাকা তুলত” (Police used to take rs 50000 every month from the illegal firecracker factory)।
শুধু তাই নয়। শুভেন্দুর এও অভিযোগ, কারখানার মালিক ভানু বাগ তৃণমূল কংগ্রেসকেও বোমা সাপ্লাই দিত। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, পুলিশ টাকা পেত বলেই আজকে রমরম করে এই বেআইনি বাজি কারখানা চলছিল।
দু’বছর আগেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের সংগঠন দেখতেন শুভেন্দু। তাঁর এই অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠেছে, তখন এই ভানু বাগকে কি চিনতেন না তিনি?
এখনও ফেরার মালিককে গ্রেফতার করা যায়নি। মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ওই বাজি কারখানার মালিককে গতবছর গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর সে কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যায়। এদিন শুভেন্দু প্রশ্ন তুলে বলেন, তারমানে বুঝুন, পুলিশ এমন কেস সাজিয়েছিল যাতে তার জামিন পেতে সুবিধা হয়।
এই ভানু বাগ ২০১৩ সালে পঞ্চায়েতে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ২০১৮ সালে এই ভানু তাঁর ছেলের বউকেও তৃণমূলের টিকিটে পঞ্চায়েতে প্রার্থী করেছিল। এই পঞ্চায়েতটি দু’মাস আগে বিজেপি ও নির্দল মিলে দখল করেছে। যা নিয়ে মঙ্গলবার মন্তব্য করেছিলেন মমতা।
পুলিশের যে গাফিলতি ছিল তা মঙ্গলবার নিজেই উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘সব মিটুক, তারপর ওখানকার আইসিকে শোকজ করা হবে। কেন তিনি নজর রাখেননি তা বলতে হবে।’
গতকাল দেখা গিয়েছিল পুলিশের উপর জনরোষ আছড়ে পড়েছে খাদিকুলে। এগরা থানার আইসিকে মেরে জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁরাও বলেন, পুলিশ ভানুর বাজি কারখানা থেকে মাসোহারা পেত। তাই চোখ বুজে ছিল। প্রসঙ্গত, ভানুর এক ভাইও বেশ কয়েকবছর আগে বাজি বিস্ফোরণে মারা গিয়েছিলেন। তবু জীবনের বাজি নিয়েই বেআইনি এই কারখানা বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে গিয়েছে সে।
এগরায় তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে ফুঁসছে গ্রাম, বিস্ফোরণের পরই পালিয়েছে মালিক