দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্মদিনের কেকে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে প্রেমিককে খুনের অভিযোগ উঠল প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল উত্তর চব্বিশ পরগনার ঘোলায়। মৃতের নাম রাকেশ আলি (২৪)।
মুড়াগাছার বাসিন্দা রাকেশের সঙ্গে ঘোলার বাসিন্দা প্রিয়ঙ্কা চক্রবর্তী নামের এক তরুণীর সম্পর্ক হয়। রাকেশের পরিবারের দাবি, দুই পরিবার কথা বলে এই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবে চলছিল রাকেশ-প্রিয়ঙ্কার সম্পর্কও। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়।
মেয়েটির পরিবার আর্থিক ভাবে তেমন স্বচ্ছল নয়। রাকেশের পরিবারের দাবি, প্রতিদিন রাকেশ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বান্ধবীর হাতে তুলে দিতেন। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পরপর তিনদিন কাজের চাপে প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি। ৯ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রিয়ঙ্কার জন্মদিন। ওইদিনই ঘটে এই ঘটনা।
অভিযোগ, প্রিয়ঙ্কার জন্মদিন উপলক্ষে ওইদিন সন্ধেবেলা ফুল আর চকোলেট নিয়ে রাকেশ তাঁদের বাড়িতে যান। গিয়ে দেখতে পান সুমন নামের এক যুবক সেখানে রয়েছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, প্রিয়ঙ্কার বাবা কল্যাণ চক্রবর্তী ও সুমন মিলে জন্মদিনের কেকে বিষ মিশিয়ে রাকেশকে খাইয়ে দেয়। বেধড়ক পেটানোও হয় তাঁকে। গুরুতর অবস্থায় রাকেশকে প্রথমে পাণিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ও পরে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরের দিনই থানায় অভিযোগ দায়ের করে রাকেশের পরিবার। তদন্তকারী অফিসার হাসপাতালেই রাকেশের জবানবন্দি নেন। জানা গিয়েছে, পুলিশকে রাকেশ বলেছেন বিষ মেশানো কেক খাওয়ানোর ঘটনা। মঙ্গলবার দুপুরে সাগর দত্ত হাসপাতালেই মৃত্যু হয় রাকেশের।
এরপরই এলাকার মহিলারা এবং রাকেশের বন্ধুবান্ধব মিলে চড়াও হত প্রিয়ঙ্কাদের বাড়িতে। তরুণীর বাবা কল্যাণবাবুকে তুলে নিয়ে এসে আটকে রাখে একটি ঘরে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের ঘিরেও ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। দাবি তোলেন, সুমন নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, উপর উপর সম্পর্কে রাজি হয়েও সুমনের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিলেন কল্যাণবাবু। পথের কাঁটা সরাতেই রাকেশকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে। পুলিশের সামনে তাঁরা অভিযোগ তোলেন, সুমনকে দিয়ে বিষ মেশানো কেক খাইয়ে রাকেশকে খুনের ছক করেছিলেন কল্যাণবাবু।
পরে কল্যাণবাবুকে উদ্ধার করে ঘোলা থানার পুলিশ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। রাকেশের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।