শান্তিপুরে খুলল কাপড়ের হাট, ছন্দে ফেরার আশায় তাঁতিরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনলক ওয়ান পর্ব চালু হতে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরা শুরু করেছে বাংলার তাঁতের অন্যতম পীঠস্থান নদিয়ার শান্তিপুর। লকডাউন শিথিল হতে যখন পুরো দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তখন শান্তিপুরও ব্যতিক্রমী নয়। এই ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে
শেষ আপডেট: 12 June 2020 09:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনলক ওয়ান পর্ব চালু হতে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরা শুরু করেছে বাংলার তাঁতের অন্যতম পীঠস্থান নদিয়ার শান্তিপুর। লকডাউন শিথিল হতে যখন পুরো দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তখন শান্তিপুরও ব্যতিক্রমী নয়। এই ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তেরো। তবে শাড়ি বিক্রি বন্ধ থাকায় ঘোর সমস্যায় তাঁতিরা।
লকডাউনের ফলে বাজার-হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শতকরা আশি শতাংশ তাঁতি চরম সংকটে রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে বহু জল্পনার পরে সুত্রাগড় অঞ্চলের ঘোষ, বঙ্গ এবং জগদ্ধাত্রী কাপড়ের হাট খুলে দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার। দিন কয়েক আগে আগেই রানাঘাটের মহকুমা শাসক নিজে এব্যাপারে আলোচনা করে গেছেন। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মহকুমাশাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ও শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অজয় দে। ফুলিয়া, সুত্রাগড়, শান্তিপুর প্রভৃতি এলাকার তাঁতিদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। ঠিক করা হয় কয়েকটি বিধিনিষেধ মেনে হাট খুলে দেওয়া হবে। তবে প্রথম দিকে তাতে রাজি হননি তাঁতিরা। ট্রেন ও বাস চালু না থাকায় ক্রেতারা কী ভাবে আসবেন সেই প্রশ্ন তাঁরা তোলেন।
চিরকালই এই হাট বৃহস্পতি ও রবিবার বসে। সেই রীতি মেনে বৃহস্পতিবার হাট খুলে দেওয়া হয়। ট্রেন চালু না হলেও বাস চালু হওয়ার পরে তাঁতিরা রাজি হন হাটে যেতে তবে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম ছিল। হাট যে খুলছে সে কথা বেশির ভাগ ক্রেতাই জানতেন না – ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ার সেটাও একটা কারণ।
হাট কমিটির পক্ষ থেকে বিভাস ঘোষ বলেন, "পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও মুখে মাস্ক লাগিয়ে অল্প সময়ে কাজ সারতে হবে ক্রেতাদের। এই তিন হাটে আগত তিন থেকে চার হাজার বিক্রেতার মধ্য থেকে অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া তাঁতি ও বিক্রেতাদের হাট কমিটি বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।"

স্থানীয় প্রশাসন যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারি চালাচ্ছে যাতে কোথাও কোনও জটলা না হয়, এক সঙ্গে অনেক গাড়ি এক জায়গায় ভিড় না করে। স্থানীয় পুরসভা থেকেও সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলার জন্য সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। হাট কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে বৃহস্পতিবার অর্ধেক বিক্রেতাকে ও বাকি অর্ধেক বিক্রেতাকে রবিবার বসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি চালার পাশে একটি চালা ফাঁকা থাকবে।
এর পরেও অবশ্য অনেকেই আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা চাইছেন হাটের কাছাকাছি যে দু’টি স্কুলের মাঠ আছে সেখানে আরও দূরত্ব বজায় রেখে ভোর চারটে থেকে সকাল ন’টা পর্যন্ত হাট চলুক। তাতে রোদ চড়া হওয়ার আগে শেষ করে দেওয়া হোক হাট। শান্তিপুরের পুরপ্রধান অজয় দে বলেন, “সকলের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষেই আমরা হাট খুলে দিয়েছি। আমাদের আশা ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
দীর্ঘদিন বাদে বৃহস্পতিবার প্রথম হাট খুললেও ক্রেতার সংখ্যা কমই ছিল। বাস এখনও সেভাবে চালু হয়নি, ট্রেনও চলছে না। তাই ক্রেতার সংখ্যা কম বলে মনে করছে হাট কমিটি। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলেও তাঁরা আশাবাদী।