দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইনকে সামনে রেখে যে অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটাতে চেয়েছিল মোদী সরকার, তার রশি ধরে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন, এসপার ওসপার হয়ে গেলেও বাংলায় এনআরসি-সিএএ হতে দেবেন না। এ ব্যাপারে নমনীয় হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।
কিন্তু প্রশ্ন তো উঠছেই। এবং পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইদানীং বড় কৌতূহলের বিষয় হল, এই লড়াইতে দিদি কি একলা পড়ে যাচ্ছেন? অন্য সব রাজ্যের অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীরা এতটাও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না! প্রশান্ত কিশোরও কি তবে মেরুকরণের ভয় পাচ্ছেন?
বাংলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হলেন প্রশান্ত। দিল্লিতে ভোট আসছে। সেখানেও ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টিকে ভোট কৌশলের পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। বলাবাহুল্য মেরুকরণের পালে হাওয়া লাগলে দিল্লিতেও ভয়ানক চাপে পড়তে পারেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
https://twitter.com/PrashantKishor/status/1208247357671923714
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এনআরসি-সিএএ বিরোধিতায় মমতা যে কট্টর অবস্থান নিয়েছেন তাতে প্রশান্তেরও নিশ্চয়ই সায় রয়েছে। দেশ জুড়ে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় উগ্র আন্দোলন শুরু হওয়ায় মমতার আন্দোলন গোড়ায় যে বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছিল তাতেও সন্দেহ নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একে তো সেই বিরোধিতার তীব্রতা কমছে। এবং দুই, অবিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দিদির মতো উগ্র বিরোধিতার পথে হাঁটেননি। তাঁরা নীতিগত আপত্তি জানিয়েই চুপ থেকেছেন।
https://twitter.com/PrashantKishor/status/1209306921624190976
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতেই সম্ভবত চাপ বাড়ছে প্রশান্ত কিশোরের উপর। তাঁদের হয়তো ধারণা ছিল যে বিরোধী শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যদি মমতার মতোই পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, তাঁদের রাজ্যে এনআরসি-সিএএ হতে দেবেন না, তা হলে বিজেপি তথা মোদী সরকার পিছু হটতে বাধ্য হবে। মোদী-অমিত শাহদের মেরুকরণের রাজনীতি অনেকটাই ভেস্তে যাবে। তাতে বাংলায় তৃণমূলের এবং দিল্লিতে আপের রাজনৈতিক লাভ হতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেই আশাপূরণ হচ্ছে না। কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা মৌখিক আপত্তি জানালেও তাঁদের রাজ্যে সিএএ-এনআরসি হতে না দেওয়ার ব্যাপারে কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করেননি। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ছাড়া মমতার মতো কোনও মুখ্যমন্ত্রীই রাস্তায় নেমে মিছিলও করেননি।
https://twitter.com/PrashantKishor/status/1197173367784132608
এই পরিস্থিতিতে প্রশান্তের পর পর কতগুলি টুইট যেন খুবই অর্থবহ হয়ে উঠেছে। কোনও টুইটে তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরোধিতায় কংগ্রেস শীর্ষ নেতাদের রাস্তায় কার্যত দেখাই যাচ্ছে না। কোনও টুইটে আবার বলেছেন, ১৬ টি বিরোধী শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই সিএএ-এনআরসিতে ‘না’ বলে দিলে এই দুই কালা নিয়মের বাস্তবায়ণই আটকে দেওয়া যেতে পারে।
প্রশান্তের এসব টুইট দুটো কারণে কৌতূহল তৈরি করেছে। একে তো প্রশান্ত কখনওই ঘন ঘন টুইট করেন না। দুই, তাঁর মধ্যে একটা মরিয়া চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতেও যদি সিএএ-র বাস্তবায়ণ শুরু হয়ে যায় তা হলে তৃণমূল রাজনৈতিক ভাবে এই আন্দোলনে নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাংলায় মেরুকরণের রাজনীতি করা আরও সহজ হয়ে যেতে পারে বিজেপির। কারণ, তখন বিজেপির প্রচারের বক্তব্য এই হবে যে বাকি সব রাজ্যে সিএএ-র বাস্তবায়ণ হলেও বাংলায় ‘সংখ্যালঘুদের খুশি করতে’ তা হতে দিল না তৃণমূল। আর মেরুকরণের রাজনীতি তৃণমূলের জন্য যে ভাল নয়, তা এতদিনে পরিস্কার। লোকসভা ভোটের ফলাফলে তার প্রমাণও পেয়েছে বাংলার শাসক দল।