টিএমসিপি-র সাংঠনিক রদবদল, কাটল না কোচবিহার জট
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কিছু জেলায় পুরনোদের বহাল এবং একাধিক জেলায় জেলা সভাপতি পদে নতুন মুখ এনে সাংঠনিক রদবদলের বারো আনা কাজ সেরে ফেলল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। বুধবার তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য কমিটি এবং জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা
শেষ আপডেট: 31 October 2018 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কিছু জেলায় পুরনোদের বহাল এবং একাধিক জেলায় জেলা সভাপতি পদে নতুন মুখ এনে সাংঠনিক রদবদলের বারো আনা কাজ সেরে ফেলল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। বুধবার তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য কমিটি এবং জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে দেন জয়া দত্তর অপসারণের পর রাজ্য সভাপতির চেয়ারে বসা ত্রিণাঙ্কুর ভট্টচার্য।
উত্তর কলকাতা, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহর, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি পদে পুরনোদের বহাল রাখলেও বেশ কিছু সাংঠনিক জেলায় নতুনদের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে মধ্য কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলা।
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে ত্রিণাঙ্কুর জানান কোচবিহার বাদে বাকি আটটি জেলায় আপাতত পুরনোরাই সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন। কিন্তু সবার চোখ যেদিকে ছিল সেই কোচবিহার জেলার জটই এখনও খুলতে পারল না শাসক দল।
তৃণমূলের গোষ্ঠী মারামারিতে দিনহাটা কলেজের ছাত্র অলোক নিতাই দাস খুনের পর কোচবিহারের টিএমসিপি-র জেলা সভাপতিকে বহিষ্কার করে, জেলা কমিটি ভেঙে দেয় দল। এর কয়েকদিন পর আবার রাজ্যের মন্ত্রী তথা কোচবিহারের জেলা তৃণমূল সভাপতি এক ছাত্র নেতার ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে নতুন ছাত্র জেলা সভাপতি বলে ঘোষণা করে দেন। দিদিমণির ধমক খেয়ে দেড় ঘণ্টার মধ্যে সেই পোস্ট তুলে নেন রবিবাবু। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন কোচবিহারে কাউকে নতুন জেলা সভাপতি করা হয়নি। মুখে কুলুপ আঁটেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। এমনিতেই কোচবিহার নিয়ে শাসক দলের যন্ত্রণার শেষ নেই। মাদার-যুব কোন্দলে রোজই কিছু না কিছু ঘটে উত্তরবাংলার এই জেলায়। দুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েও রবিবাবু-সমেত জেলার নেতাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন।
কলেজে কলেজে ভর্তি দুর্নীতি নিয়ে নাম জড়িয়েছিল শাসক দলের ছাত্র সংঠনের। তারপরই সভাপতি পদ থেকে জয়া দত্তকে সরিয়ে দেন মমতা। বেশ কিছুটা সময় টিএমসিপি সভাপতিহীন থাকার পর দায়িত্ব দেওয়া হয় বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতা ত্রিণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। যদিও অনেকেই বলেন, ত্রিণাঙ্কুর জয়া ঘনিষ্ঠ। তাই নামে সভাপতি হলেও টিএমসিপি-র সুতো এখনও জয়ার হাতেই। এ দিনই ভর্তি দুর্নীতি প্রসঙ্গে ত্রিণাঙ্কুর বলেন, 'যাঁরা ওই কাজ করেছে তারা সবাই বহিরাগত। সংঠনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এটাই নাকি উঠে এসেছে!'