দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় পুলিশকে লাথি মারার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর ধৃতের নাম সাকির। সে টিকিয়াপাড়া এলাকারই বাসিন্দা। টিকিয়াপাড়ায় পুলিশের উপরে হামলার ঘটনায় শুক্রবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেরা করেই সাকিরের খোঁজ পায় পুলিশ। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ধৃতকে জেরা করতে চায় পুলিশ।
শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারপর গভীর রাতে টিকিয়াপাড়া থেকে সাকির নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। টিকিয়াপাড়ায় পুলিশের উপর নিগ্রহের ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। জানা গেছে হামলার ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল সাকিরকে। পুলিশকর্মীকে লাথি মারার যে ছবি ভাইরাল হয়েছিল সেই ছবি সাকিরের বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল টিকিয়াপাড়া। লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার কন্টেনমেন্ট জোন বেলিলিয়াস রোডে রাস্তায় নামা জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছিল পুলিশকে। এই ঘটনায় দুই মহিলা পুলিশকর্মী সহ চার পুলিশকর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দু’টি গাড়ি। পুলিশের উপরে হামলার ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।
বেলিলিয়াস রোড এলাকাটি হাওড়া থানার অধীন। মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ সেখানে একটি বাজারে ফল কেনা নিয়ে বেশ কয়েক জন লোককে জমায়েত করতে দেখে পুলিশ। এলাকাটিতে সম্পূর্ণ ভাবে লকডাউন চলছে। তার মধ্যে এই অবস্থা দেখে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় পুলিশ। তবে ওই যুবকরা সরে না গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু করে এবং তা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। লডডাউন উপেক্ষা করে প্রচুর লোক রাস্তায় বেরিয়ে এসে পুলিশের উপরে চড়াও হয়। মারমুখী হয়ে ওঠে। পুলিশ পিছোতে থাকে। তখন পুলিশকে লক্ষ করে ইট ও বোতল ছোড়া শুরু হয়। তাতে দুই পুলিশকর্মী আহত হন। পুলিশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যায়। খবর দেওয়া হয় থানায়। ততক্ষণে ভাঙচুর শুরু হয়ে যায় স্থানীয় ফাঁড়িতে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ব়্যাফ। প্রথমে ব়্যাফকে ঘিরে ধরে জনতা ও পরে তাড়া করে। চলে আসে হাওড়া থানা ও ব্যাঁটরা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকা ফাঁকা করে দেওয়া হয়। সেই রাতেই দশ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় রুট মার্চ।