দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মঙ্গলবার রথ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এবার উৎসব বন্ধ। মনখারাপের মেঘ তো আছেই সঙ্গে রুচিরুজিতেও টান।
রথ উৎসবের দিকে তাকিয়ে থাকেন বহু ছোট ব্যবসায়ী। রথের মেলায় পসরা সাজিয়ে বসার সুযোগ তো থাকেই, সঙ্গে খেলনা রথের বিপুল চাহিদা পূরণ করেও মেলে আয়ের সুযোগ। এ বছর সব বন্ধ।
দীর্ঘ লকডাউনে এমনিতেই অর্থনীতি বেসামাল। এখন লকডাউন ধীরে ধীরে শিথিল হলেও করোনা ভাইরাসের গ্রাস থেকে মুক্তি মেলেনি। গোটা রাজ্যের সঙ্গে জেলাতেও প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ট্রেন চলাচল এখনও শুরু হয়নি। বাস চললেও তা হাতেগোনা। যাত্রী নেই বললেই চলে। দোকানপাট খুললেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় নেই। ব্যবসার এই মন্দা অন্যসময় হলে রথে পুষিয়ে যেত অনেকটাই। কিন্তু এবার সে পথ পুরোপুরি বন্ধ।
কমলাপ্রসাদ ধরের মতও অনেক ব্যবসায়ীই সারা বছর মুখিয়ে থাকেন রথ উৎসবের জন্য। রথের চাকা গড়ানোর অনেক আগেই দোকানে দোকানে খেলনা রথের চাহিদা থাকে বিপুল। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির চত্বরের আশেপাশে যে কয়েকটি দোকান আছে, সেখানে ভিড় ঠেলে ঢোকা যায় না। ঘরে ঘরে ছোটরা রথ বার করে। সেই প্রস্তুতির জন্য বেরিয়ে পড়েন অভিভাবকরা। কিন্তু এবছর সবই খাঁ খাঁ করছে।
ছোটরা এবার ঘরবন্দি। করোনা পরিস্থিতিতে রথ নিয়ে রাস্তায় বার হওয়ার অনুমতি মেলেনি। তাই ক্রেতা নেই সর্বমঙ্গলা মন্দির চত্বরে পুজোর সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলিতে। বিক্রির জন্য রথ সাজিয়ে রেখেছেন অনেকেই। কিন্তু কেনার লোক কোথায়? তাই কপাল পুড়েছে দোকানিদের। ব্যবসায়ী কমলাপ্রসাদ ধর বললেন, ‘‘প্রতিবার সাজাই। হরেকরকম রথ এবারও সাজিয়ে রেখেছি দোকানে। কিন্তু কিনতে আসছেন না কেউই। সারা বছর সমান বিক্রিবাটা থাকে না। রথযাত্রার মতো বিভিন্ন উৎসবের মরসুমে যা বিক্রি হয়, তাতে পুষিয়ে যায়। এ বার এমনিতেই লকডাউনের জেরে আমাদের বিক্রি নেই, সেই ক্ষতিপূরণ হল না।’’
সপ্তাহখানেক আগে বর্ধমানের রাজবাড়ির লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর রথ উৎসব এবার হবে না বলে ট্রাস্টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়। শুধুমাত্র নিয়ম নীতি মেনে পুজো হবে জানিয়েছিলেন বোর্ডের সদস্যরা। তেমনই মেলা বসবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। এই রথের মেলায় বিক্রিবাটার আশায় থাকেন বহু ব্যবসায়ী। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশায় ছিলেন তাঁরা। কিন্ত মন্দির কমিটির সিদ্ধান্তে মাথায় হাত পড়েছে তাঁদের। বিক্রির জন্য যা খেলনা তুলেছেন তার আংশিক তো দূরের কথা সিকি ভাগও বিক্রি হবে না এবার।