এসএসসি-তে নয়া নিয়ম রাজ্যের, জারি বিজ্ঞপ্তি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনে নিয়ম বদলের কথা বেশ কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের কোনও স্তরেই আর ইন্টারভিউ থাকছে না। শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার
শেষ আপডেট: 1 March 2020 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনে নিয়ম বদলের কথা বেশ কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের কোনও স্তরেই আর ইন্টারভিউ থাকছে না। শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ করা হবে। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়মে বেশ কিছু বদল ঘটিয়েছে শিক্ষা দফতর।
রাজ্যের তরফে জারি এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার ফল দেখেই নিয়োগ হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টের জন্য যে নম্বর বরাদ্দ ছিল, তাও এবার থাকছে না। এবার থেকে পরীক্ষার্থীদের দিতে হবে দুটি লিখিত পরীক্ষা। একটি টেট ও অন্যটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর। টেট পরীক্ষাকে সাধারণত প্রিলিমিনারি টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই টেট পাশ করতে পারলে তবেই তার বিষয়ের খাতা দেখা হবে। তারপরে এই দুই পরীক্ষার ভিত্তিতে বের হবে মেরিট লিস্ট।
এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এবার থেকে স্কুল সার্ভিস সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ থাকলে তা আর কমিশনে জানানো যাবে না। তা জানাতে হবে রাজ্য সরকারের কাছে। সরকারই সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, ঠিক কী কী বদল হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনে।
- এবার থেকে কোনও পরীক্ষার্থীকে মোট ৩০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। প্রথমটা হবে ১০০ নম্বরের টেট। সেই টেটের পরে ২০০ নম্বরের একটি সাবজেক্টের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অবশ্য এই ২০০ নম্বরকেও তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ৫০ নম্বর থাকছে পরীক্ষার্থী যে মাধ্যমের স্কুলে পড়াবেন তার উপর, অর্থাৎ বাংলা অথবা হিন্দি। ৫০ নম্বর থাকছে ইংরেজির উপর। বাকি ১০০ নম্বর থাকবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী যে বিষয়ের জন্য আবেদন করেছেন তার উপর। তবে টেট পাশ করলে তবেই কোনও পরীক্ষার্থীর সাবজেক্টের খাতা দেখা হবে।
- দুটি লিখিত পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতেই তৈরি করা হবে মেধা তালিকা। সেই তালিকা অনুযায়ী হবে কাউন্সিলিং। কোনও রকমের মৌখিক থাকছে না। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টের জন্য যে নম্বর বরাদ্দ ছিল, তাও এবার থাকছে না।
- এবার থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী পাঁচটি গ্রুপ করা হয়েছে। যদি কোনও পরীক্ষার্থীর যোগ্যতা থাকে তাহলে তিনি পাঁচটি গ্রুপেই আবেদন করতে পারবেন। তারপরে পাশ করলে তিনি নিজের পছন্দমতো গ্রুপ বেছে নিতে পারবেন।
সূত্রের খবর, মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ক্ষেত্রে কারচুপির প্রচুর অভিযোগ সামনে আসছে। অনেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, মৌখিকের সময় পেন্সিলে নম্বর লিখে পরে তা কমিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন অনেকে। এই মামলার ফাঁসে আটকে যাচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। তাই নিয়োগে স্বচ্ছতার জন্য মৌখিককেই এবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা দফতর। এই প্রক্রিয়ায় গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া ৬-৭ মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা শিক্ষা দফতরের।
তবে এই নতুন নির্দেশিকার পরেও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখার ক্ষেত্রেও যে কোনও কারচুপি হবে না তার কী প্রমাণ। কেউ দুর্নীতি করতে চাইলে তা যে কোনওভাবেই করা যায়। এই নতুন নিয়মে বরং সমস্যায় পড়বেন পুরনো পরীক্ষার্থীরা। কারণ বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকলেও অনেকের বাংলা, ইংরেজির উপর দক্ষতা কম। টেট-এর ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েন অনেকে। অথচ পড়ানোর ক্ষেত্রে তো সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া কিছুর দরকার পড়ে না। এই নিয়মে তাঁদের মেধা তালিকায় নাম তোলা অনেক কঠিন হবে বলেই অভিযোগ করছেন তাঁরা।