দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে কুড়ি-একুশ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বার্নপুরের শ্যামবাঁধের সুরেশ প্রসাদ। বাড়ি ফিরবেন বলে স্ত্রীকে শেষ চিঠি দিয়েছেন অন্তত বছর আঠেরো আগে। তার পর থেকে আর হদিশ ছিল না সুরেশের।
দিল্লিতে গিয়ে একটা বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ পেয়ে যান সুরেশ। প্রথম দিকে বাড়িতে চিঠি লিখতেন। বছর দুয়েক পরে তাও বন্ধ করে দেন। সুরেশ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে বিপদে পড়ে যান তাঁর স্ত্রী ঊর্মিলা। প্রথম দিকে তিনি উদভ্রান্ত হয়ে পড়েন। এক সময় মনে হয়েছিল তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবেন। সময়ের সঙ্গে তিনি অবশ্য নিজেকে সামলে নেন। ধীরে ধীরে ধাতস্থ হয়ে লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে শুরু করেন। সেখান থেকে অন্য জায়গায় কাজ পেয়ে যান।
বছরের পর বছর যায়। এক সময় সুরেশের কথা ভুলে যান উর্মিলা ও তাঁর ছেলেমেয়েরা। ইতিমধ্যে টাকাপয়সা জোগাড় করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন উর্মিলা। দুই ছেলেকেও স্বনির্ভর করে তুলেছেন। তাঁদের জীবন অনেক দিনই স্বাভাবিক খাতে বইছে।
উর্মিলাকে বৃহস্পতিবার হঠাৎ পুলিশ খবর দেয় তাঁর স্বামী সুরেশ প্রসাদ দিল্লি থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি এইচএলজি হাসপাতালে ভর্তি আছে। খবর শুনে তড়িঘড়ি পুলিশের সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছে যান উর্মিলা। বছর চল্লিশের সুরেশ এখন ষাট-বাষট্টির প্রবীণ নাগরিক। প্রথমে তাই চিনতে পারছিলেন না উর্মিলা। তারপরে তাঁর মনে পড়ে সুরেশের হাঁটু ও গোড়ালির মাঝে কাটা দাগের কথা। সেকথা বলায় পুলিশ পোশাক সরিয়ে পরীক্ষা করে সুরেশের পায়ের ওই অংশ। দেখা যায় সেই দাগ রয়েছে।
তারপরে পুলিশ সুরেশকে তাঁর পরিবারের সব লোকের নাম ও পরিচয় দিতে বলে। সব উত্তরই ঠিকঠাক দেন সুরেশ। সেসব শুনে কেঁদে ফেলেন উর্মিলা। কুড়ি বছর পার হয়ে যাওয়ার পরে স্বামীকে ফিরে পেয়ে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
এখন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে সুরেশকে। চোদ্দো দিন পরে তিনি বাড়িতে ফিরতে পারবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।