Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটো

গুটখায় মিশছে রাজনীতি, ছোপ পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুটখা-বিরোধী গর্জনে হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল ভরে উঠতে শুরু করেছে বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা থেকে। সঙ্গে একটি সরকারি নিষেধাজ্ঞা। গত ২৫ তারিখ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, বাংলায় গুটখা ও তামাকজাত পানমশলা নিষিদ্ধ। আগাম

গুটখায় মিশছে রাজনীতি, ছোপ পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

শেষ আপডেট: 1 November 2019 15:19

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুটখা-বিরোধী গর্জনে হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল ভরে উঠতে শুরু করেছে বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা থেকে। সঙ্গে একটি সরকারি নিষেধাজ্ঞা। গত ২৫ তারিখ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, বাংলায় গুটখা ও তামাকজাত পানমশলা নিষিদ্ধ। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে বাংলায়। এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি গুটখায় এর আগে নিষেধাজ্ঞা ছিল না? নতুন করে তা জারি করল বাংলার সরকার? তখন তৃণমূল সরকারের বয়স সবেমাত্র একবছর হয়েছে। ২০১৩ সালের মে মাসে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলায় নিষিদ্ধ হবে গুটখা। জারি হয়েছিল বিজ্ঞপ্তি। তাহলে এখন এত হইচই কেন? সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নির্দেশিকার মেয়াদ একবছর। প্রতিবছর ওই মেয়াদ শেষের আগে ফের একবছরের জন্য নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। পানমশলার সঙ্গে তামাক বা জর্দা মিশলে তবেই সেটা গুটখা হয়। ২০১২ সাল থেকেই সারা দেশের মতো বাংলাতেও পানমশলা আর তামাককে আলাদা করে দেওয়া হয়। ক্রেতারা ইচ্ছে করলে জর্দা নেন বা নেন না। অনেকেই বলছেন, এই নির্দেশিকায় নতুনত্ব কিছু নেই। তাহলে হঠাৎ এমন হইচই কেন? তাঁদের মতে, এর মধ্যে ভরপুর রাজনীতি রয়েছে। গত বছর দেড়েক ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালি জাতীয়বাদকে উস্কে দিতে বারবার করে গুটখার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়। রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীকে বিভিন্ন সময় বলতে শোনা গিয়েছে বিজেপি "গুটখাখোড়দের পার্টি।" মনে পড়ে, হালিশহর পুরসভার যে কাউন্সিলররা বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন, তাঁরা যেদিন তৃণমূলে ফিরলেন, সেদিন ফিরহাদ হাকিম কী বলেছিলেন? তাঁর বক্তব্য ছিল, "এঁরা বিজেপিতে গিয়ে ওই সংস্কৃতি মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। গুটখার গন্ধে গা গুলিয়ে উঠছিল। তাই আবার তৃণমূলে ফিরে এসেছেন।" পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, গুটখা দিয়ে বিজেপিকে বোঝাতে চাওয়ার একটা প্রবণতা বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলির রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সেই বাঙালি সেন্টিমেন্টকে আরও একটু খুঁচিয়ে দিতেই সাম্প্রতিক হইচই। তবে অনেকে এও বলছেন, নেশা মাত্রই খারাপ। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি নেশাকে রাজনৈতিক ভাবে দেগে দেওয়াও একধরনের প্রাদেশিক মনোভাব। তাঁদের অনেকেরই প্রশ্ন, যাঁরা গুটখা খান, তাঁরা সবাই বিজেপি? বা যাঁরা বিজেপি করেন, তাঁরা সবাই গুটখা খান? এটা কখনও হতে পারে? মূলত গুটখা, খৈনি এই জাতীয় নেশার উৎপত্তি বাংলায় নয়। হিন্দিভাষী মানুষদের আধিক্য যেখানে, সেখানেই এই ধরনের নেশার প্রবণতা বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাঙালিদের মধ্যেও ঢুকে গিয়েছে। যদিও সরকারের বক্তব্য, রাজ্যের মানুষের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এবং কঠোর ভাবে তা বলবৎ করা হবে। এমনিতে গুটখার ক্ষতিকারক যে দিক, তা ভয়াবহ। মুখের ক্যানসার বৃদ্ধি তো আছেই। এর সঙ্গে গুটখার পিক যেখানে পড়ে, সেই জায়গাও ক্ষয়ে যায়। হাওড়া ব্রিজের পিলারের স্বাস্থ্য খারাপ হয়েছে এই কারণেই। দৃশ্যদূষণেও গুটখা সাংঘাতিক আকার নিয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সিঁড়ির কোণ থেকে রেলস্টেশন-সর্বত্র তার ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু এসবের পরেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এটা শুধু বাঙালি জাতীয়তাবাদী সেন্টিমেন্ট ধরার কৌশল নয় তো? অনেকে এও প্রশ্ন তুলছেন, প্রতি বছরই তো নির্দেশিকা জারি হয়, কিন্তু কার্যকর হয় কই? তাঁদের মতে, বাংলায় এমন অনেক কেন্দ্র আছে, যেখানে অবাঙালি ভোট নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকার কি এই নির্দেশিকাকে কঠোর ভাবে প্রয়োগ করার এত বড় ঝুঁকি নেবে? নাকি নির্দেশিকা জারি করে বাঙালি সেন্টিমেন্টকে জাগিয়ে রেখেই শুধু ক্ষান্ত থাকবে? সব মিলিয়ে গুটখা নিষেধাজ্ঞার রুটিন বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই একদিকে যেমন 'বাঙালিত্বের হইচই' শুরু হয়েছে, তেমনই উঠছে হাজারো প্রশ্ন। অনেকে আবার রসিকতা করে এও বলছেন, বাংলা বলেই সম্ভব। যেখানে গুটখাও রাজনীতির অংশ! পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প

```