দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্যাকসিন নিলেই চুম্বক শক্তি তৈরি হচ্ছে মানুষের দেহে, এমনই আজব খবর হাওয়ায় ভাসছে কয়েক দিন ধরে। তেহট্টের প্রবীর মণ্ডল, শিলিগুড়ির নেপাল চক্রবর্তী, বসিরহাটের শংকর প্রামাণিকরা এই কারণেই রাতারাতি শিরোনামে উঠে এসেছেন। কিন্তু এই দাবি কতটা যৌক্তিক? আদৌ কি করোনার ভ্যাকসিন নিলে দেহে কোনও চুম্বক শক্তি তৈরি হওয়া সম্ভব?
চুম্বকের এই দাবি প্রথম থেকেই নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ যদি তা সত্যিই ঘটত, তবে আজ নয়, অনেক আগে থেকেই খবর ছড়াত। শুধু বাংলায় নয়, তা দেখা যেত দেশে বা পৃথিবীর নানা প্রান্তে। তাছাড়া বিজ্ঞানের কোনও চেনা যুক্তিও এর পিছনে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দেখা গেছে, শরীরে যদি পাউডার মাখিয়ে দেওয়া যায়, তবে কিন্তু কোনও হাতা খুন্তি চামচ পয়সা কিছুই আর আটকে থাকছে না। সব বেমালুম ঝরে যাচ্ছে। তাই যদি হয়, তবে নিশ্চিত আর যাই হোক দেহ চুম্বকে পরিণত হয়নি একেবারেই। কারণ চুম্বক হলে পাউডারে তার শক্তি গায়েব হত না।
কিন্তু নেপাল চক্রবর্তী শংকর প্রামাণিকদের দাবিটাই বা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় কীভাবে? তাঁরা তো ছবি তুলে স্পষ্ট দেখিয়েছেন তাঁদের শরীরে আটকে গিয়েছে বড় বড় লোহার তৈরি জিনিস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে কোনও ধাতব বস্তু আটকে থাকা সাধারণ বিষয়। এর পিছনে চৌম্বকতত্ত্ব নেই। বস্তুর আসঞ্জন বলের ফলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। আলাদা আলাদা দুটো বস্তু একে অপরের সংস্পর্শে আসার ফলে তাদের অনুগুলোর মধ্যে আসঞ্জন বল কাজ করার জন্য আকর্ষণের কাজ করে। এছাড়া শরীরে ঘাম তো আছেই। এর পিছনে কোনও অভিনবত্বই নেই।
সম্প্রতি রায়গঞ্জের এক এলাকা থেকে চুম্বকীয় শরীরের খবর মিললে সেখানে পৌঁছে যান সাংবাদিকরা। তারপর যাঁদের গায়ে পয়সা চামচ ইত্যাদি আটকে ছিল, তাঁদের গায়ে পাউডার মাখতে বলা হয়। ব্যাস, কেল্লা ফতে! সব চুম্বক শক্তি গায়েব।
বিজ্ঞানীদের দাবি, কিছু মানুষ এমন খবর রটিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন। খবরের শিরোনামে উঠে আসাও এর উদ্দেশ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।