দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন নারদা মামলায় (Narada Case) বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের তলব এড়িয়েই চলছিল দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডি। স্পিকারের ঘন ঘন তলবের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে কলকাতার হাইকোর্টের দ্বরস্থও হয়েছিল সিবিআই ও ইডি। আদালত এ ব্যাপারে জানিয়েছিল, কোনও রকম নির্দেশ দেওয়ার আগে অতি দ্রুত বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে একবার দেখা করতেই হবে নারদ মামলায় তদন্তকারী সিবিআই আধিকারিকদের। আজ সোমবার বিকেল ৪টের মধ্যে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ পেতেই তড়িঘড়ি বিধানসভায় ছুটলেন সিবিআই আধিকারিকরা।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর ডেকে পাঠানো হয় সিবিআই ও ইডিকে। তারা না এসে ওই দিন বিধানসভার সচিবালয়কে একটি চিঠি দেয়। সেই চিঠির উত্তর মনোমত না হওয়ায় ফের দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তলব করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। আজ দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ ইডি ও দুপুর ২ টো নাগাদ সিবিআই -এর প্রতিনিধি বিধানসভার সচিবালয়ে যান। ইডির তরফ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠিও সচিবালয়ের তরফে গ্রহণও করা হয়। কিন্তু পরে সিবিআই গেলে সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি বলেই জানা গেছে।
এদিন হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পরেই বিকেল ৪টে নাগাদ বিধানসভায় আসেন সিবিআই আধিকারিকরা। এর কিছুক্ষণ পরে ইডি-র আধিকারিকরাও ঢোকেন বিধানসভায়। স্পিকারের সঙ্গে কথাবার্তা হয়। বিকেল ৫টা নাগাদ আধিকারিকরা বেরিয়ে যান।
ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিশেষ এজলাসে নারদ মামলার চার্জশিট পেশ করেছিল ইডি। সেই চার্জশিটে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রের নাম ছিল। বিধানসভার সচিবালয়ের বক্তব্য ছিল, স্পিকারের অনুমতি না নিয়েই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য তাঁদের সমনও পাঠানো হয়েছে। নারদ মামলায় অভিযুক্তরা যেহেতু রাজ্যে মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি, তাই সরাসরি তাঁদের নোটিস না পাঠিয়ে বিধানসভার স্পিকারের মারফৎ ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইডির পাঠানো সমন গেছে বিধানসভার স্পিকারের কাছে। যাতে তিনি সেই নোটিস পাঠিয়ে ইডি দফতরে নেতা-মন্ত্রীদের হাজিরা দিতে বলেন। কিন্তু বিধানসভা কর্তৃপক্ষ তা পাঠাতে অস্বীকার করেন। তা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। বিধানসভার স্পিকারের যুক্তি, প্রিভেনশন অফ কোরাপশন আইন ১৯ (১) অনুসারে বিধায়কের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে গেলে বিধানসভার স্পিকারের অনুমোদন নেওয়ার দরকার হয়। সেটা নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভাকে বাদ দিয়ে অনুমোদন নিয়ে আসা হচ্ছে যা সঠিক নয়। জনপ্রতিনিধিদের চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রে যে আইন রয়েছে, সিবিআই ও ইডি তা লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পরেই সিবিআই ও ইডিকে বিধানসভায় তলব করা হয়, যা এড়িয়ে যায় দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাই। পাল্টা সিবিআই ও ইডির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিধানসভায় ডেকে পাঠানোর কোনও এক্তিয়ার নেই স্পিকারের।