দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, যে কাউকে একঘরে করতে হবে! বিশেষ করে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কোনও কর্মীকে যদি হেনস্থা করা হয়, তবে তা মোটেই বরদাস্ত করা হবে না। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি এ শহর তথা এ রাজ্যও। প্রথম থেকেই করোনা নিয়ে যথেষ্ট তৎপরতার পরিচয় দিয়েছে প্রশাসন। কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সামনেও জানিয়েছেন সরকারি পদক্ষেপগুলো। আজ, বুধবার তেমনই এক সাংবাদিক বৈঠক ছিল। যেখানে সমাজের নানা স্তরের মানুষের নানা সমস্যার দিকে নজর দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিন দুয়েক ধরেই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে খবর এসেছে, হাসপাতাল থেকে ফেরার পরে ডাক্তার ও নার্সদের সামাজিক অসম্মানের মুখে পড়তে হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িও ছেড়ে দিতে হয়েছে অল্প সময়ে। কোথাও আবার কাজ করে বাড়ি ফেরা কোনও জরুরি কর্মীকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত তিনি। ফলে স্থানীয়দের কাছে হেনস্থা হতে হয়েছে অনেককে।
এই সব খবর যে মুখ্যমন্ত্রীর অজানা নয়, তা বোঝা যায় বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকেই। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা মানে কাউকে একঘরে করে দেওয়া নয়। তাঁর কথায়, "কোনও ডাক্তার-নার্সকে কোনও বাড়িওয়ালা যেন উচ্ছেদ না করেন। সোশ্যাল বয়কট করা চলবে না কাউকে। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা যথেষ্ট সচেতন। ওঁদের নিজের কাজ করতে দিন। ওঁদের হেনস্তা করলে বরদাস্ত করব না। আমরা দানবিক মানুষ নই। মানবিক মানুষ।"
শুধু তাই নয়। কলকাতায় যাঁরা জরুরি পরিষেবা দেন, তাঁরা কীভাবে দূর থেকে আসবেন বা বাড়ি ফিরবেন, তা নিয়েও চিন্তিত তিনি। জানান, বিশেষ বাস ঠিক করে তার সময়সূচি বলে দেওয়া হবে। জরুরি ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কর্মীদের জন্য কিছু হোটেল, অতিথিশালা ও বিয়েবাড়ি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি।
বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী বা বেসরকারি হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারী যাঁরা, তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আশ্বাস দেন, টাকার জন্য চিন্তা করতে হবে না।