
শেষ আপডেট: 13 August 2023 08:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর মৃত্যুর ঘটনায় (Jadavpur Student Death) বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিন সৌরভের জামিন নাকচ করে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত।
স্বপ্নদীপের বাবা সৌরভকে ফাঁসিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রণতিদেবীর দাবি, “আমার ছেলে হস্টেলে ছিল। স্বপ্নদীপের বাবাকে ও বলেছিল, ‘হ্যাঁ কাকু রেখে যান। আমরা দেখব।’ এটাই ওর অপরাধ। স্বপ্নদীপের বাবা ফাঁসিয়েছে।” সৌরভের বাবা নিরুপম চৌধুরীও বলেন, “তদন্ত হোক না, আমার ছেলে কোনও দোষ করেনি।”
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের এ-২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় নদিয়ার হাঁসখালির বাসিন্দা স্বপ্নদীপের। শুক্রবারই ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সৌরভ সহ একাধিকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্বপ্নদীপের বাবা। বয়ানে বেশকিছু অসঙ্গতি মেলায় ওইদিনই সৌরভকে আটক করে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে পুলিশ। রাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
২০২২ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্ক নিয়ে এমএসসি পাশ করেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার খারুষা গ্রামের সৌরভ। অভিযোগ, পাশ করে যাওয়া পরেও গত একবছর ধরে হস্টেলেই থাকত সৌরভ। স্বাভাবিকভাবে সৌরভের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী তত্ত্বের অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি কীভাবে কর্তৃপক্ষেরও নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। যদিও মায়ের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ছেলে। মাঝে ঘরভাড়াও নিয়েছিল। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে সৌরভ হস্টেলে ফিরে গিয়েছিল। প্রণতিদেবীর কথায়, “হস্টেলে থাকলেও সকলের উপকার করত ছেলেটা। তাতেই ফেঁসে গেল।”
স্বপ্নদীপের মায়ের কণ্ঠে একরাশ উদ্বেগ, ‘আমাদের পয়সা নেই, ওরা ছাড়া পেয়ে যাবে না তো?’