
শেষ আপডেট: 10 June 2022 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪৯২ নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিকে সপ্তম হয়ে (HS Result) তাক লাগিয়ে দিল মাছওয়ালার মেয়ে! প্রবল আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করে সাফল্যের মুখ দেখল শিলিগুড়ির রীতা হালদার। পরিবারের অভাব ঘোচাতে রীতার মা গীতা হালদার লোকের বাড়িতে ঠিকে ঝির কাজ করতেন। মা যেদিন অসুস্থ থাকতেন সেদিন এই মেধাবী রীতা লোকের বাড়িতে গিয়ে বাসন মেজে দিয়ে আসত!
শিলিগুড়ির বুদ্ধভারতী হাইস্কুলের ছাত্রী রীতা ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভাল। মাধ্যমিকেও ভাল ফল করেছিল। সেবার মেধাতালিকায় জায়গা না পেলেও স্কুলে প্রথম হয়েছিল রীতা। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ মেধা তালিকা প্রকাশের পর রীতা জানিয়েছে উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে থাকার বিষয়ে সে আশাবাদী ছিল। এই ভাল ফলের জন্য নিজের স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন ও স্থানীয় শিক্ষক পীযূষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছে সে। রীতার যাতে পড়াশোনার সমস্যা না হয় তাই এঁরা নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করত রীতাকে।
তবু এই মেধাবী ছাত্রীর লড়াই সহজ ছিল না। শিলিগুড়ি লাগোয়া ডাবগ্রামের বানেশ্বরমোড়ের সরু গলি ধরে ক্ষুদিরাম পল্লীর টিনের একচালা বাড়িতে মা-বাবা ও দাদার সঙ্গে থাকে রীতা হালদার। তার বাবা সকাল হলেই সাইকেল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় মাছ বিক্রি করতে বেরিয়ে পড়েন। মাও ভোর ভোর লোকের বাড়িতে কাজ করতে চলে যান। রীতার দাদা সনাতন কাঠের মিস্ত্রি। তিনিও বেরিয়ে গেলে সারাদিন বাড়িতে একাই থাকত এই মেধাবী ছাত্রী। গোটা সময়টাই হয় পড়াশোনা নয় সংসারের কাজ করে কাটাত সে।
মাধ্যমিকের পর ইতিহাস, ভুগোল, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইভিএস নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিল রীতা। তাই নিয়েই তাক লাগিয়ে দিল সে। অনার্স নিয়ে আগামী দিনে পড়াশোনা করতে চায়। তবে কীসে অনার্স নেবে সেটা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি। তবে রীতা প্রত্যয়ের সঙ্গেই জানিয়েছে অর্থ পড়াশোনার পথে বাধা হলেও সে থেমে থাকবে না। ঠিক কোনও না কোনও একটা উপায় বার করে সে এগিয়ে যাবে।
যদি মেয়ের এই সাফল্যের কথা এখনও জানে না রীতার মাছওয়ালা বাবা। তিনি সেই ভোরে মাছ বিক্রি করতে বেরিয়ে গিয়েছেন। কাছে মোবাইলও নেই। বাড়ি এলে তবেই জানতে পারবেন মেয়ে কী করেছে। হালদার পরিবারের সকলেই এখন তারই পথ চেয়ে বসে আছে। তবে রীতার অপেক্ষা স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি।
নার্সিংহোমের হিটারে পুড়ে সদ্যোজাতর মৃত্যু! জলপাইগুড়ির ঘটনায় থানায় পরিবারের