দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলি তৃণমূলে যেন কী লেগেছে!
পুজোর আগেই দিলীপ যাদব, বেচারাম মান্না, প্রবীর ঘোষালদের কোন্দল ঠেকাতে যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অফিসে বৈঠক ডেকেছিলেন। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করে বলেছিলেন, এবার থেকে আমি হুগলি দেখব!
এত কিছুর পর আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলা কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। হাতে তালিকা নিয়ে জেলা পার্টি অফিসে সবে পড়তে শুরু করেছিলেন সাংসদ তথা জেলা সংগঠনের চেয়ারম্যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু একটা ফোন এসে সব ঘেঁটে দিল।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক শুরু করার পরেই তাঁর কাছে ফোন আসে। সেই ফোন রেখেই শ্রীরামপুরের সাংসদ বলে দেন, জেলা কমিটি ঘোষণা হবে না। কেন? তাঁর জবাব, ওই তালিকা অসম্পূর্ণ।
কিন্তু ওই তালিকা কল্যাণ বাবুর হাতে কে দিয়েছিল। কে-ই বা ফোন করলেন আইনজীবী সাংসদকে। সে ব্যাপারে অবশ্য সত্যজিত্ রায়ের ছবির মতো থ্রিলার রাখার চেষ্টা করল তৃণমূল। কিন্তু রহস্য আর রইল কই।
সন্ধে গড়িয়ে রাত হতেই জেলার এক মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে বলে ফেলেছেন, পিকের টিম থেকে এসেছিল ওই তালিকা। কিন্তু অসম্পূর্ণ কেন? জানা যাচ্ছে পাণ্ডুয়া, চাঁপদানি, উত্তরপাড়া, খানাকুল সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্লক কমিটি ও সভাপতি নিয়ে ক্ষোভ হতে পারে। তাই ঘোষণা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছ।
অনেকে বলেন হুগলিতে যতগুলি বিধায়ক ততগুলো গোষ্ঠী। পর্যবেক্ষকদের মতে, সিঙ্গুর, বলাগড়ের মতো ব্লক নিয়ে চিন্তিত তৃণমূল। একদিকে এই সব স্পর্শকাতর এলাকায় রয়েছে বিজেপির দাপটে।অন্যদিকে তৃণমূলের দলাদলিও তীব্র।
এমনিতেই লোকসভা ভোটে হুগলি আসন হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। আরামবাগ আসন সুতোর ব্যবধানে জিতেছে শাসকল। সেই ক্ষতয় প্রলেপ দিতে মরিয়া তৃণমূল। বাম, কংগ্রেস এই জেলায় প্রান্তিক শক্তি। তাই একুশে যখন সম্মুখ সমর বিজেপি তৃণমূল হতে চলেছে হুগলিতে তখন জেলা কমিটি ঘোষণা স্থগিত করে দেওয়া তাত্পর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের অনেকে।