
শেষ আপডেট: 6 July 2023 08:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনা নিয়ে বেনজিরভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার সকালে কার্যত বাংলার উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে, রাজ্যপাল প্রশ্ন তুলেছেন, “পঞ্চায়েত ভোটে যদি গণতন্ত্রের হত্যা হয়, তা হলে খুনি কে? কে খুনি? ওহে রাজ্য নির্বাচন কমিশন, তুমি কি দয়া করে হাত তুলবে? তুমি তুলবে কি হাত? কারণ, তোমার জানা উচিত, খুনি কে?”
বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটে সন্ত্রাসের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। এই সন্ত্রাসের ইতিহাসও প্রায় পঞ্চাশ বছর হতে চলল। রাজ্যপালের হয়তো তা নিয়ে ধারণা ছিল না। বরং তাঁর কথায়, "আমি ভেবেছিলাম, বাংলার গ্রামেগঞ্জে গিয়ে দেখব, চিত্ত হেথায় ভয় শূন্য, উচ্চ হেথায় শির। কিন্তু এসে দেখলাম একেবারে উল্টোটা। মানুষের মনে ভয়, মাথা হেঁট হয়ে আছে। গ্রামে গিয়ে বিধবার কান্না শুনেছি, পুত্রহারা মায়ের কান্না দেখেছি। কী করে এসব বন্ধ হবে, যখন রক্তাসুরের হাতেই ক্ষমতা। তবে মনে রাখতে হবে, রক্তাসুর থাকলে মহাকালীও থাকবে।"
এখানেই থেমে থাকেননি রাজ্যপাল। এদিনের দীর্ঘ বক্তৃতার পরতে পরতে তিনি কখনও রবীন্দ্রনাথ, কখনও শেক্সপিয়ারকে উদ্ধৃত করেছেন। কখনও তিনি বলেছেন, “নরক থেকে শয়তান উঠে এসেছে, তারা নৃত্য করছে, ক্যানিং, ভাঙড়, বাসন্তী, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদের মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে।” আবার কখনও বলেছেন, “নরক খালি হয়ে গেছে, শয়তানরা এখন সব এখানেই।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে যে সব ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তেমন শব্দচয়ন কখনও জগদীপ ধনকড়ও করেননি। রাজ্যপাল তাঁর বক্তৃতায় রাজীব সিনহার উদ্দেশে সরাসরি বলেছেন, “আমি আপনাকে নিয়োগ করেছি, আর আপনি আমাকে হতাশ করেছেন। আপনি কর্তব্য পালনে ফেল করেছেন। রাস্তায় যে শবদেহ পড়ে আছে তার জন্য আপনিই দায়ী।”
রাজ্যপালের কথায়, "আপনি কি অশ্বথামা হতে চান? রাতের অন্ধকারের চোরের মতো ঢুকে পাণ্ডবদের ছেলেমেয়েকে যে কুচিয়ে কেটেছিল, নাকি আপনি জুজুৎসু হবেন, যিনি অর্ধমকে ছেড়ে এসেছিলেন।"
এ সব কথা বলে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে ৮ দফা পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যপাল। ভোটে আধাসামরিক বাহিনীর যথাযথ মোতায়েন, রুট মার্চ, স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়া, ইত্যাদির সুপারিশ রয়েছে তাতে।
রাজীব সিনহা ‘সহযোগিতা’ করছেন, অভিষেকের জেলায় ফোর্স বাড়িয়ে দ্বিগুণ করলেন বিএসএফ কর্তা