দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উঁচুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত 'দুয়ারে সরকার' কর্মসূচি পালন করল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। এলাকা যতই দুর্গম হোক না কেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর তাঁরা, এমনটাই মত জেলা প্রশাসনের অধিকর্তাদের।
বক্সা ফোর্ট, যা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে, সেই বক্সা ফোর্ট এ যেতে হলে অতিক্রম করতে হয় দুর্গম তিনটি জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়। যেখানে যেতে হলে একমাত্র উপায় পায়ে হাঁটা। নেই কোনও গাড়ি, নেই পাকা রাস্তা। এমনকি নেই মোবাইল নেটওয়ার্কও। তবে আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে রয়েছে জনবসতি। এখনও সেখানে বসবাস করেন মানুষজন।
তাঁদের কথা মাথায় রেখেই শনিবার ভারী বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ৩টি পাহাড় ডিঙিয়ে, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুর্গম পথ পায়ে হেঁটেই 'দুয়ারে সরকার' কর্মসূচি পালন করলেন সরকারি আধিকারিকরা। বক্সা ফোর্ট, যা উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত।
শনিবার সেখানে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বক্সা-দুয়ার বিএফপি স্কুলে। উপস্থিত ছিলেন কালচিনির বিডিও প্রশান্ত বর্মন ও স্থানীয় ব্লক আধিকারিক, গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা সহ জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা।
কালচিনির বিডিও প্রশান্ত বর্মন সংবাদমাধ্যমে জানান, আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকে বিভিন্ন দুর্গম পাহাড় রয়েছে এবং ২১ টারও বেশি চা বাগান রয়েছে। রাজ্য সরকারের সকল প্রকল্পগুলি সেখানকার সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়াই প্রধান উদ্দেশ্য।
ওই এলাকার নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে সকলকে তাঁরা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম দেন এবং তা পূরণ করে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে সেগুলি ব্লক অফিসে বসে রেজিস্ট্রেশন করা হবে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ৩০০-র কাছাকাছি ফর্ম জমা পড়েছে।